নগদ গাড়ি নিয়ে হাজির তামিম

তেজকুনি পাড়ার গির্জা গলি ধরে ছুটছে রুদ্র। ছুটছে আর চিৎকার করছে, ‘তামিম আইছে, তামিম আইছে।’ জোর করে পথ আটকে ‘তামিম কেনো এসেছে’ জানতে চাইলে রুদ্র একগাল হেসে দিলো। সব জানে এমন একটা ভঙ্গি করে বললো, ‘নগদ থেইকা গাড়ি নিয়া আইছে। নগদ দিয়া কেনাকাটা কইরা অনুপ ভাই গাড়ি পাইছে না? সেই গাড়ি নিয়ে আইছে তামিম।’

হ্যা। হাতেনাতে নগদ-এর উপহার হিসেবে খোদ তামিম ইকবালের কাছ থেকে একটি সেডান কার বুঝে পেলেন অনুপ এলভিন অধিকারী। 

পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে বিশাল এক ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে নগদ। মাত্র ৫০০ টাকার কেনাকাটা করেই লাখ, কোটি টাকার উপহার জেতার সুযোগ পাচ্ছেন নগদ ব্যবহারকারীরা। এই ক্যাম্পেইনে শেষ অবধি রয়েছে একটা কোটি টাকার একটা বিএমডব্লু গাড়ি। ইতিমধ্যে বিশাল এই ক্যাম্পেইনের পুরষ্কার পেতে শুরু করেছেন বিজয়ীরা। বিজয়ীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এইসব পুরষ্কার হাতে তুলে দিচ্ছেন সেলিব্রিটিরা। তারই অংশ হিসেবে নিজের জেতা সেডান গাড়ি বুঝে পেলেন অনুপ। 

কয়েক দিন আগে একটি ই-কমার্স সাইট থেকে তেল, পোলাউ চাল কিনেছিলেন অনুপ। ১১৩৫ টাকা বিল এসেছিলো। নগদ ওয়ালেট থেকে বিল পেমেন্ট করেছিলেন তিনি। তখন তিনি জানতেনও না যে, এরকম কেনাকাটা করে নগদ থেকে বিল দিলে উপহার মিলতে পারে। সেই অনুপ সেদিন দুপুরে হঠাৎ চোখ মেলে দেখলেন, তার দুয়ারে দাড়ানো স্বয়ং তামিম ইকবাল। 

অনুপ কখনো কল্পনাও করেননি যে, সামান্য এই কেনাকাটা তাকে এতো বড় একটা পুরষ্কার এনে দেবে। তাকে প্রথমে বলা হয়েছিলো একটা ফ্রিজ জিতেছেন। এরপর তামিমের সাথে বাসার সামনে বেরিয়ে দেখলেন, আসলে জিতেছেন স্বপ্নের একটা গাড়ি। 

বিষ্ময়ের ঘোর লাগা কণ্ঠে অনুপ বলছিলেন, ‘আমার জন্য তামিম ইকবালকে দেখাটাই জীবনের সেরা প্রাপ্তি ছিলো। উনি তো সারা বিশ্বের তারকা। ওনাকে কাছ থেকে দেখাও কঠিন। সেখানে উনি নিজে আমার বাসায় এসে হাজির হয়েছেন। আমি কোনো কিছু মিলাতে পারছিলাম না। তামিম আমার বাসায় আসবেন কেনো, তামিম আমার সাথে কেনো কথা বলবেন, কিছু বুঝতে পারছিলাম না।’ 

তামিমের এই উপস্থিতিই অনুপকে ঘোর লাগিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিলো। কিন্তু এরপর তামিম তাকে বললেন, নগদ-এ কেনাকাটা করে তিনি একটা ফ্রিজ জিতেছেন। নিচে নেমে দেখলেন একটা গাড়ি। এই দৃশ্য অনুপ কখনোই ভুলবেন না। ধরা গলায় বলছিলেন, ‘আমার জীবনে এর আগে এমন দিন কখনো আসেনি। আর আসবে বলেও মনে হয় না। তামিম ইকবালের কাছ থেকে একটা সেডান কার বুঝে পেলাম, এটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার। আমার মত একজন মানুষের জন্যেএকটা সেডান গাড়ি তো সারাজীবন মনে রাখার মত ব্যাপার।’

অনুপের বাবা সুশান্ত অধিকারীর জন্যও এটা আজীবন মনে রাখার মত একটা ব্যাপার ছিলো। সাবেক এই বেসরকারী চাকরীজীবি মানুষটার দিন কাটে এখন শুয়ে বসে। এই মানুষটা ভুগছেন হৃদরোগে। কোনো আবেগ প্রকাশেও ভয় হয়। ছেলের এমন প্রাপ্তিতে তার চোখে আনন্দের পানি। আরেকটু সেই আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছে তামিম ইকবালের কথা। 

অনুপ বলছিলেন, ‘বাবার চিকিৎসা করানোটা কঠিন একটা ব্যাপার ছিলো। তামিম নিজেই বাবার সাথে কথা বলে মুগ্ধ হয়েছেন। তিনিই বলেছেন, বাবার চিকিসা করাতে যা দরকার, সেটা তিনি করাবেন। আমি আর ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। নগদ আমার জীবনটাই বদলে দিয়েছে।’

অনুপের জীবনটা এখন বড় কঠিন। নিজের চাকরি নেই। বাবা অবসর নিয়েছেন। ভাড়া বাসায় জীবন কাটে মা হাসি অধিকারীর একার আয়ে। সেই নিস্তরঙ্গ জীবনটা রঙ্গীন করে দিয়েছেন তামিম ইকবাল ও নগদ। তার আর কিছু চাওয়ার নেই। চোখ মুছে বলছিলেন, ‘আমার অনেক না পাওয়া ছিলো। কিন্তু এই দিনের পর থেকে আমি মনে করি, ঈশ্বর আমাকে দু হাত ভরে দিয়েছেন।’