হিসাব মেলাতে পারছেন না তামিম

শামীম হামিদ, নটিংহ্যাম (ইংল্যান্ড) থেকে

নিজের পারফরম্যান্সে হতাশ তামিম। এই বিশ্বকাপে ছয়টা ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। কিন্তু তাঁর ব্যাট এখনো নিষ্প্রভ। প্রতিটা ম্যাচেই উইকেটে থিতু হওয়ার আগে আউট হয়ে যাচ্ছেন। ছয় ম্যাচে একটিমাত্র ফিফটি পেয়েছেন। তবে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে যাওয়া ম্যাচে ঐ ফিফটি পেয়ে কোনো লাভ হয়নি দলের।

ম্যাচ হেরে যাওয়ায় সেমিতে ওঠা একরকম অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের। ম্যাচ শেষে তামিম বলেন, ‘প্রথম তিন ম্যাচে আমি কিন্তু উইকেটে সেট হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু দুটি ম্যাচেই বাজে শট খেলে উইকেট বিসর্জন দিয়েছি। টিম আমার কাছে আরো কিছু আশা করে। আমিও আমার কাছে আরো বেশি আশা করি। কিন্তু এখনো সেরা খেলাটা খেলতে পারিনি।’

তামিম বলেন, ভাগ্যটাও এই খারাপ সময়ে তার সঙ্গে আছে বলে মনে হচ্ছে না, ‘সবকিছু হয়তো-বা হিসাবমতো যাচ্ছে না। যখন শুরু করেছিলাম একটু ডাউন ছিলাম। শেষ দুই ইনিংসে ভাগ্যটাও ভালো ছিল না। আজকেও দেখেন (অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে) সাধারণত এ শটটা আমি খুব ভালো খেলি। কিন্তু আজ আমার দিন ছিল না। আমার কাছে মনে হয় আমি ভালো অবস্থায় আছি, শুধু একটা ইনিংসের প্রয়োজন, যেটা আমি বড় করতে পারি। সমস্যা হচ্ছে আমাদের হাতে সেই সময়টা নেই।’

নটিংহ্যামে অস্ট্রেলিয়ার স্কোরটা অনেক বেশি হয়ে গিয়েছিল বলে তামিম মনে করেন। তাঁর মতে, স্কোরটা ৩৩০-৩৪০-এর মধ্যে থাকলে ভালো হতো, ‘তারা আমাদের ধারণার চেয়ে কমপক্ষে ৪০ রান বেশি করে ফেলেছিল। ম্যাক্সওয়েলের ইনিংসটা (১০ বলে ৩২ রান) ম্যাচের বাঁক পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। অস্ট্রেলিয়ার ছুঁড়ে দেওয়া বিশাল লক্ষ্য অতিক্রম করার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের নেই মন্তব্য করে তামিম বলেন, ‘আমি যেটা চাইছিলাম, ৩০ ওভারে ১৮০ কিংবা ২০০ করতে পারি, তাহলে শেষ ২০ ওভারে একটা সুযোগ নিতে পারি। কারণ আপনি যদি আগেই বেশি আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়ে আউট হয়ে খেলাটা নষ্ট করে দেন তাহলে আজকে ৩৩০-৪০-ও হতো না। আমার চেষ্টা ছিল, ৩০ ওভারে ওই রান করা এবং বাকিটা যেটা ১২০ বলে ১৬০-৭০ রান করা, যেটা টি-টোয়েন্টিতে হয়ে যায়। যেখানে আমার ও মুশফিকের ক্যাপিটালাইজ করার কথা। আমি ভুল সময়ে আউট হলাম। সাকিব আর আমার একটা জুটি হয়েছিল। ও একটা ভুল সময়ে আউট হলো। আমরা ভালো খেলেছি। জিনিসটা আরো ভালো হতে পারত, ভুল সময়ে আউট না হলে।’

শেষ দুই ম্যাচে ৩০০-এর বেশি রান করাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন দলের এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। বলেন, ‘আমাদের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে যদি এই বিশ্বাসটা আসে যে আমরা ওই রানটা ডিফেন্ড করতে পারি, তাহলে আমাদেরও সুযোগ থাকবে চেজ করে ফেলার। আশার কথা যে, আমরা এ বিশ্বাসটা করতে শুরু করেছি।’

বোলিংয়ের ক্ষেত্রে তিন-চার ওভারের একটা স্পেলের কারণে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটা হাত থেকে সরে গেছে বলে মনে করেন তামিম। সামনের তিন ম্যাচে জিতে বাংলাদেশ সেমিতে উঠে যাবে বলে আশাবাদী তামিম।