বড়লেখা (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
গ্রাম্য পঞ্চায়েতের ডাকে বিচারে না যাওয়ায় আপন দুই ভাইয়ের পরিবারকে ‘সমাজচ্যুত’ করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে গ্রামের দিগেন্দ্র দাসের বাড়িতে সালিশ বৈঠক ডেকে তাদের সমাজচ্যুত (একঘরে) করা হয়। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দাসেরবাজার ইউনিয়নের মালিচিরি গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। এসময় ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিকাশ চন্দ্র দাসও উপস্থিত ছিলেন। একঘরে হওয়া ব্যক্তিরা হচ্ছেন—মালিচিরি গ্রামের বিকুল চন্দ্র দাস ও বিধুর চন্দ্র দাস।
একঘরে হওয়া বিকুল চন্দ্র দাস অভিযোগ করে বলেন, ‘গত প্রায় দু’মাস আগে পাশের বাড়ির একজনের সঙ্গে আমার স্ত্রী, ভাই ও ভাতিজির ঝগড়া হয়। এর জের ধরে তারা লোকজন নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে স্ত্রী, ভাই ও ভাতিজিকে মারধর করে বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। এই ঘটনায় মামলা করতে গেলে মেম্বার ও গ্রামের মুরুব্বিরা বাধা দেন। বিচার করে দেবেন বলে তারা আমার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা আমানত নেন। দুমাস অতিবাহিত হলেও তারা বিচার করে দেননি। পরে বাধ্য হয়ে গত বৃহস্পতিবার বড়লেখা আদালতে মামলা করেছি। এই খবর পেয়ে শুক্রবার তারা তড়িঘড়ি করে বিচার ডাকেন। মেম্বার এসে হঠাত্ আমাকে বলেন, ‘আজ তোমার বিচার। তখন আমি মেম্বারকে বলি আপনারা বিচার বসাবেন আমাকে আগে জানাননি কেন? এভাবে আমি বিচারে বসব না।’
গ্রামের মুরুব্বি জগদীশ দাস মুঠোফোনে বলেন, ‘গ্রামের পূজা, বৈঠক, বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে নিমন্ত্রণ দেওয়া হবে না। তারাও অনুষ্ঠানে আসতে পারবে না।’
ইউপি সদস্য বিকাশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘গ্রামের মুরুব্বিসহ সবাই বসেছেন। বসে তাদের ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমিও ছিলাম।’
স্থানীয় দাসেরবাজার ইউপি চেয়ারম্যান কমরউদ্দিন বলেন, ‘বাদী বিচারে রাজি হয়নি। একজনের মনমতো না হলে সে বিচার না মানতে পারে। কিন্তু তাকে একঘরে করা ঠিক হয়নি।’
বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান শুক্রবার বিকেলে বলেন, ‘বিষয়টি কেউ জানায়নি। তারা এটা কোনোভাবে করতে পারেন না। আমি খোঁজ নিচ্ছি। যারা এটা করেছেন অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’