সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
সৈয়দপুরে কৃষক রয়েছেন ২৯ হাজার ৮০০ জন, আর সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান দিতে পারছেন মাত্র ৪৯১ জন। এরপরও পরিমাণে স্বল্পতা তো রয়েছে। একজন কৃষক মাত্র ৪৮০ কেজি করে ধান দিতে পারবেন সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে। এতে উপজেলার কৃষকরা তাদের উত্পাদিত বোরো ধান নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলায় কৃষক রয়েছেন ২৯ হাজার ৮০০ জন। এবার কৃষকরা প্রায় আট হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। এতে ৫০ হাজার টন ধান উত্পাদন হয়েছে। এবার উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অথচ স্থানীয়ভাবে সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান কেনা হচ্ছে মাত্র ২৩৬ টন। আর সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে উল্লেখিত পরিমাণ ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন মাত্র ৪৯১ জন কৃষক। বাকিরা সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান বিক্রির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অথচ এসব সুবিধাবঞ্চিত কৃষকের আয়ের প্রধান উত্স বোরো ধান। ধানকে ঘিরেই তাদের সারা বছরের বাজেট নির্ধারণ হয়। কিন্তু প্রধান ফসলের মূল্য না মেলায় উপজেলার কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কৃষক আইনউদ্দিন জানান, অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার করে ধান কাটা-মাড়াইয়ের শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করেছেন। এখন বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন তিনি।
তিনি জানান, সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির জন্য তিনি কয়েক দফা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ইউএনও অফিসে ধরনা দিয়েছেন। কিন্তু তারা শুধুমাত্র একে অপরের কাছে যেতে বলেন। ফলে বাজারে ৮৪ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা ধান ৮৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
উপজেলার বাঙালিপুর ইউনিয়নের কৃষক নিজাম উদ্দিন বলেন, এবারে ১১ দোন জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করেছেন। ধান পেয়েছেন প্রায় ২৪০ বস্তার মতো। এর মধ্যে সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে মাত্র ১২ বস্তা ধান বিক্রি করতে পেরেছেন। বাজারে ধানের দাম কম। বাকি ধান তিনি কী করবেন ভেবে কুল-কিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না।
সৈয়দপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব সোহেল আহমেদ জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে নেওয়া ও কৃষি বিভাগের কৃষক তালিকা থেকে সমন্বয় করে ৪৯১ জন কৃষকের বোরো ধান ক্রয়ের তালিকা করা হয়েছে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৪৮০ কেজি ধান ক্রয় কেন্দ্রে সরবরাহ করতে পারবেন। তবে তিনি জানান, সরকারিভাবে ধান চাল ক্রয় লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে বরাদ্দ আসলে আমরা আরো বেশি সংখ্যক কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করতে পারবো। তখন মূলত লটারির মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ক্রয় কমিটির সভাপতি এস এম গোলাম কিবরিয়া জানান, ক্রয় নীতিমালা মেনেই উপজেলায় ধান চাল সংগ্রহ অভিযান চলছে।