বগুড়ায় প্রধান ডাকঘরের কর্মচারীকে হত্যা করে ডাকাতি

অফিস সহায়ককে হত্যা করে বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় অবস্থিত প্রধান ডাকঘরে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে প্রধান ডাকঘরের কর্তৃপক্ষ। রোববার (২৩ এপ্রিল) রাতে এ ঘটনায় কী পরিমাণ টাকা খোয়া গেছে তা বলতে পারেনি তারা।  

নিহত প্রশান্ত আচার্য্য (৪৮) বগুড়ার শাহজাহানপুরের বেজোড়া ঘাট এলাকার বাসিন্দা এবং বগুড়া ডাকঘরে দায়িত্বরত অফিস সহায়ক।

নিহত প্রশান্তের ছোট ভাই ও একই ডাকঘরে কর্মরত গোবিন্দ আচায্য জানান, ঈদের ছুটির কারণে তার ভাইকে ডাকঘরে রাতের ডিউটি দিয়েছিল। আমিও এখানে সঞ্চয়পত্র শাখায় চাকরি করি। সকালে অফিসে এসে বারান্দায় ভাইকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে চলে আসে। 

নিহতের বড় ভাই পরেশ আচার্য জানান, প্রশান্তকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ডাকাতির কোনো ঘটনা ঘটেনি। হত্যার ঘটনা চাপা দিতে ডাকাতির নাটক সাজানো হয়েছে।

ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল রাকিব বিশ্বাস বলেন, প্রশান্তকে খুন করা ছাড়াও তাদের বেশ কিছু টাকা খোয়া গেছে। তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, প্রধান ডাকঘরে ডাকাতির চেষ্টা হয়েছে। একজন কর্মচারীকে ভারী কোন বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। ডাকঘরের ভোল্ট কাটার চেষ্টা হয়েছে। তবে টাকা নিতে পারেনি বলে মনে হয়েছে।

সিআইডির ক্রাইম সিন এক্সপার্টরা এসেছে, আমরা আশা করছি তদন্তে আমরা এ ঘটনার প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে পারবো।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ভাই গোবিন্দকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে পোস্ট অফিসের আর কিছু খোঁয়া গিয়েছে কিনা তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।

বগুড়ার জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে মুখোশ পরা এক ব্যক্তির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ভোল্টে থাকা কিছু টাকা খোয়া গেছে। তবে মূল ভোল্ট ভাঙতে পারেনি। এই ঘটনায় সিআইডি ও পুলিশ গুরুত্বসহ কাজ করছে।