রাজনীতিকের বাসা থেকে ইয়াবা উদ্ধার

রাজনীতিক সাইফুর রহমান মিঠু। বিগত সংসদ নির্বাচনে তিনি বরিশাল থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হবারও চেষ্টা করেছিলেন। তবে তিনি যে দলের সমর্থক সে দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। এর বাইরে তার পরিচয় তিনি পোল্ট্রিফার্ম ব্যবসায়ী।  আর অদৃশ্য ব্যবসার মধ্যে রয়েছে মাদক ব্যবসা। অনলাইনে ব্যাংক ডাকাতি       চক্রের সঙ্গেও জড়িত তিনি। এছাড়া বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিক (বিশেষ করে নাইজেরিয়ান) যারা নানা প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত তাদের আশ্রয়দাতা। এমনই সব বর্ননা দিয়েছেন সাইফুর রহমান মিঠুর প্রাইভেটকার চালক মোহাম্মদ আলী শেখ। গত ১৫ জুন মিঠুর ইয়াবা চালান সরবরাহকালে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একটি দল মোহাম্মদ আলী শেখকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্য মতে সাইফুর রহমান মিঠুর উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর রোডের ২০ নম্বর বাড়ির (অর্গন ম্যাপল) নিজ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয় এক হাজার পিস ইয়াবা, ৩০ লিটার মদ ও ইয়াবা বিক্রির টাকা। এ ঘটনায় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর গুলশান সার্কেলের উপ-পরিদর্শক আতাউর রহমান বাদী হয়ে রাজধানীর উত্তরার উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেছেন। তবে ঘটনার পর থেকে মিঠু পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে মাদক অধিদফতরে একাধিক টিম।

জিজ্ঞাসাবাদে প্রাইভেটকার চালক মোহাম্মদ আলী শেখ জানান, বরিশাল কোতয়ালী থানাধীন নাজির মহল্লার স্থায়ী বাসিন্দা মিঠু। তার পরিবার পরিজন সেখানেই থাকে। উত্তরার ফ্ল্যাটে মিঠু একাই থাকে। ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বিশেষ করে কক্সবাজার এলাকার লোকজন মাঝে মধ্যে এসে দু’একদিনের জন্য অবস্থান করে চলে যায়। তবে বাংলাদেশে অবস্থানকারী বেশ কয়েকজন নাইজেরিয়ান নাগরিক মাঝে মধ্যে এসে মিঠুর সঙ্গে দেখা করেন।

মোহাম্মদ আলী শেখ জানান, তিনি বছর চারেক ধরে মিঠুর প্রাইভেটকার চালান। প্রথম দিকে জানতেন না যে, তার মালিক মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। চাকুরি নেয়ার পরপরই বুঝতে পারেন। তবে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে সে নিজে জড়িত নয়, মালিকের (মিঠুর) নির্দেশ মতো চালান গাড়িতে করে নির্ধারিত স্থানে পৌছে দিতেন। তিনি আরও জানান, সাইফুর রহমান মিঠু একটি বাম রাজনৈতিক দলের সক্রিয় নেতা বলে দাবি করেন। তবে কোন পর্যায়ের নেতা তা মোহাম্মদ আলী জানাতে পারেননি। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল সদর আসনে প্রার্থী হবার জন্য জোর লবিং করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তার দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি।

 অভিযান পরিচালকনাকারী মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের কাছে তথ্য ছিল লাল রঙের একটি প্রাইভেটকারে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবার চালান পৌঁছে দেয়া হয়। কিন্তু কোনভাবেই তারা সেটি শনাক্ত করতে পারছিলেন না। পরবর্তীতে সোর্সের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয় ওই প্রাইভেটকার মালিকের সঙ্গে চালক মোহাম্মদ আলী শেখের যোগাযোগ রয়েছে। মোহাম্মদ আলী শেখ নিজেও ইয়াবা চালান সরবরাহের সঙ্গে জড়িত। এ পর্যায়ে মাদক অধিদফতরের টিম সোর্সের মাধ্যমে চালক মোহাম্মদ আলী শেখের কাছ থেকে ১০০ পিস ইয়াবার চালান কেনেন এবং তাকে ফলো করতে থাকেন। কর্মকর্তারা জানান, প্রায় তিনমাস ফলো করার পর গত ১৫ জুন মোহাম্মদ আলী শেখের পিছু নিয়ে তারা সাইফুর রহমান মিঠুর ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। কিন্ত ঘটনার সময় মিঠু উপস্থিত ছিলেন না। সেসময় মিঠুর বেডরুম ছিল তালবন্ধ। চার রুমের ওই ফ্ল্যাটের এক রুমে থাকে চালক মোহাম্মদ ্আলী। মোহাম্মদ আলীর রুম থেকে উদ্ধার করা হয় একশত পিস ইয়াবা। পরে ওই ভবনের একাধিক দারোয়ান ও বেশ কয়েকজন বাসিন্দার উপস্থিতিতে ভাঙা হয় সাইফুর রহমান মিঠুর বেড রুমের তালা। সবার উপস্থিতে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় এক হাজার পিস ইয়াবা, ৩০ লিটার মদ, একটি পাসপোর্ট ও ইয়াবা বিক্রির টাকা।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের সহকারী পরিচালক খোরশিদ আলম বলেন, সাইফুর রহমান মিঠুকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।  তিনি বলেন, চালক মোহাম্মদ আলীর শেখের তথ্য মতে মিঠুর বিরুদ্ধে অনলাইনে ব্যাংক ডাকাতি ও বিদেশি নাগরিকদের নিয়ে প্রতারণার একাধিক মামলা রয়েছে। সে মামলাগুলোর ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।