নরসিংদীর পলাশে স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন এক স্কুল শিক্ষক। তার নাম দেবজিত চন্দ ভৌমিক। তিনি পলাশ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক। সবার কাছে তিনি ভীষণ ‘ভদ্র’ মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গত দেড় মাস ধরে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে অনেককে পথের ভিখারি বানিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দেবজিত ঘোড়াশাল পৌর এলাকার পাইকসা গ্রামের বিশ্বনাথ চন্দ ভৌমিকদের ছেলে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, দেবজিত নম্র ভদ্র একজন শিক্ষক ছিলেন। এত বড় প্রতারণা তার দ্বারা কিভাবে সম্ভব হলো তা ভেবে আমরাও হতভাগ হয়ে গেছি। তিনি পালিয়ে যাওয়ার পর জানতে পারলাম শিক্ষকদের কালভ সমিতি থেকে আমার নামেও তিন লাখ টাকা নিয়ে গেছেন। তাছাড়া আমার স্কুলের অফিস সহকারী মাহবুবার কাছ থেকে ১০ লাখ, সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেনের কাছ থেকে তিন লাখ, মলিনার কাছ থেকে তিন লাখ, নাজিম উদ্দিনের কাছ থেকে দুই লাখ ৫০ হাজার ও স্কুল পিয়ন রাজিব চক্রবর্তীর কাছ থেকে দুই লাখ নিয়ে গেছে। তাছাড়া সে ৯ম শ্রেণির শ্রেণি শিক্ষক থাকাকালীন গত দুই বছর ধরে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে উঠানো প্রায় দুই লাখ টাকাও নিয়ে গেছে।
সাংবাদিকরা তার বাড়িতে গেলে দেবজিতের ভাই পিন্টু চন্দ ভৌমিক জানান, তার ভাই বাবার কাছ থেকে কৌশলে জমি ও বাড়ির কিছু অংশও লিখে নিয়ে সেগুলো বিক্রি করে দিয়েছে। এখন প্রতিদিন বাড়িতে পাওনাদাররা আসছে। ঘোড়াশাল পৌর এলাকার আম্বালা ফাউন্ডেশন নামের এক এনজিওর কর্মকর্তা বলেন, তিনি আমাদের শাখা থেকেও চার লাখ টাকা ঋণ নিয়ে একটি কিস্তি দিয়ে আর ব্যাংকে আসেনি। এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘ সময় চাকরির সুবাদে শিক্ষক সমাজ, সাধারণ মানুষ, অভিভাবক ও ব্যবসায়ীদের আস্থাভাজনে পরিণত হন দেবজিত। আর সে সুযোগে বিভিন্ন মহলের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হন দেবজিত। তারা বলেন, এলাকায় একজন ভালো ও ভদ্র শিক্ষক হিসেবে তিনি সবার পরিচিত ছিলেন।