বাংলাদেশ এবং নেপাল- দুই দেশই বিদ্যুত্ ঘাটতিতে রয়েছে। বাংলাদেশে যখন বিদ্যুত্ চাহিদা বেশি, নেপালে তখন কম। আবার নেপালে যখন চাহিদা বেশি বাংলাদেশে তখন কম। ঋতুভেদে এই চাহিদার তারতম্যকে কাজে লাগিয়ে এক দেশের উদ্বৃত্ত বিদ্যুত্ অপর দেশের কাছে বিক্রি করতে পারে। পাশাপাশি নেপালে বিদ্যুত্ উত্পাদনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ওই দেশের জলবিদ্যুত্ কেন্দ্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে এবং বাংলাদেশের কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের নেপালের বিদ্যুত্ খাতে অংশগ্রহণের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের স্থানীয় একটি হোটেলে বিদ্যুত্ খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত বাংলাদেশ-নেপাল জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ ও জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটির দ্বিতীয় সভায় এমন বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত উঠে আসে। জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটির ওই সভায় বিদ্যুত্ সিনিয়র সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এবং নেপালের বিদ্যুত্, পানি সম্পদ ও সেচ সচিব দিনেশ কুমার ঘিমি নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
স্টিয়ারিং কমিটির সভা সূত্র জানায়, নেপালে জলবিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের বিপুল সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের বিদ্যুতের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এই সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। উভয় দেশের মধ্যে ঋতুভেদে বিদ্যুত্ চাহিদার তারতম্যের আলোকে পারস্পরিক বাণিজ্যে গুরুত্ব দেন দুই সচিবসহ অন্যরা। নেপালে জলবিদ্যুত্ কেন্দ্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা ও বাংলাদেশের কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের নেপালের বিদ্যুত্ খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে সভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
নেপাল সরকার সে দেশে সম্ভাব্য ২০টি জলবিদ্যুত্ প্রকল্প চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে কোনো কোনো প্রকল্পে বাংলাদেশের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে, তা উভয় দেশ খতিয়ে দেখবে। নেপালে বিদ্যুত্ কেন্দ্রে অর্থায়ন ও যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিত করা, উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য পন্থা নির্ধারণ এবং ক্রস বর্ডার ইন্টারকানেকশনের মাধ্যমে বিদ্যুত্ সঞ্চালনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত জয়েন্ট টেকনিক্যাল টিম (জেনারেশন) ও জয়েন্ট টেকনিক্যাল টিম (ট্রান্সমিশন) ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। সঞ্চালন লাইনের কিছু অংশ ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে নির্মিত হবে। তাই বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল ত্রিপক্ষীয় সমঝোতার বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।
ভারতের জিএমআর কর্তৃক নেপালে বাস্তবায়িতব্য ৯০০ মেগাওয়াট আপার কার্নালী জল বিদ্যুত্ কেন্দ্রে উত্পাদিত ৫০০ মেগাওয়াট বাংলাদেশে আমদানির সিদ্ধান্ত রয়েছে। পিডিবি, জিএমআর এবং এনভিভিএন’র মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্তকরণের কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-নেপাল জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ ও জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম সভা গত বছরের ডিসেম্বরে নেপালের কাঠমুন্ডুতে অনুষ্ঠিত হয়।