ইরানে আক্রমণের অনুমোদন দিয়েও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার পর ইরানে পাল্টা আক্রমণের অনুমোদন দিয়েও সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান প্রস্তুত থাকার পরও ট্রাম্পের মত পাল্টানোর কারণে শেষ পর্যন্ত কোনো যুদ্ধাস্ত্র ছোড়া হয়নি। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমস এ খবর প্রথম জানায়। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে হামলায় ১৫০ মানুষ মারা যাবে শুনে হামলা বন্ধ করা হয়েছে। কারণ ভূপাতিত ড্রোনের সঙ্গে এতো মানুষের হতাহতের বিষয়টি যুক্তিযুক্ত নয়। 

হোয়াইট হাউসের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, ড্রোন ভূপাতিত করার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ইরানের রাডার ও মিসাইল ব্যাটারির স্থাপনা ছিল। নাম না প্রকাশের শর্তে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি এড়াতে শুক্রবার ভোরের আগেই ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সিদ্ধান্ত হয়। সেই মোতাবেক যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়। তবে আক্রমণের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ায় ইরানের দিকে কোনো যুদ্ধাস্ত্র ছোড়া হয়নি।

ইরানে হামলার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই তার মত বদলেছেন কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। কারণ বৃহস্পতিবার ড্রোন ভূপাতিত করার পর রিপাবলিকানরা প্রেসিডেন্টকে যথাযথ জবাব দিতে চাপ দিচ্ছিল। তবে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প সতর্ক করে বলছিল, এ ধরনের পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। তবে গতকাল ট্রাম্প নিজে টুইট করে সিদ্ধান্ত বদলের কারণ জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করায় গত রাতে ইরানের তিনটি ভিন্ন স্থানে এর জবাব দিতে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু আমি যখন জানতে চাইলাম কতজন লোক মারা যেতে পারে, বলা হলো ১৫০ জন। হামলা চালানোর ১০ মিনিট আগে আমি বন্ধের নির্দেশ দেই। কারণ ড্রোন ভূপাতিত করার সঙ্গে এ হতাহত যুক্তিযুক্ত নয়। আমার কোনো ব্যস্ততা নেই। আমাদের সেনাবাহিনী পুনর্গঠিত এবং আধুনিক। অবরোধ কাজ করছে। ইরান কখনোই পরমাণু ক্ষমতাধর দেশ হবে না। এর আগে ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে সিরিয়ায় আক্রমণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা ‘ড্রোন’ গুলি করে ভূপাতিত করে ইরান। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, ড্রোনটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় ছিল। এর জবাব দিতেই ইরানে হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। 

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিককালে হরমুজ প্রণালীতে বেশ কিছু তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহেই দুটি তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানকেই দায়ী করেছে। তবে তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রেভ্যুলিশনারি গার্ডসের প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি বলেছেন, ড্রোনটিকে ভূপাতিত করা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের পরিষ্কার বার্তা।

এদিকে হরমুজ প্রণালী ও ওমান উপসাগরীয় এলাকায় ইরান নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমা দিয়ে মার্কিন বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (এফএএ)। এফএএ-এর বিবৃতিতে বলা হয়, ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার সময় ঐ এলাকায় অনেকগুলো বেসামরিক বিমান চলাচল করছিল। তবে কতদিন পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ থাকবে তা জানায়নি। ইতিমধ্যে এমিরেটস এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইটের রুট পরিবর্তন করেছে।

অন্যদিকে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার ছবি প্রকাশ করেছে ইরান। রেভ্যুলিশনারি গার্ডসের কমান্ডার আমির আলী হাজিজাদেহ বলেন, ইরানের জলসীমা থেকে ড্রোনের টুকরা উদ্ধার করা হয়। এটি ভূপাতিত করার ১০ মিনিট আগে চূড়ান্ত সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন, মার্কিন ড্রোনের কাছেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি যাত্রীবাহী বিমান ছিল। কিন্তু ইরান সেটা টার্গেট করেনি।