আফগান পরীক্ষার আগে সতর্ক বাংলাদেশ

বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা একটা কথাই বারবার বলে আসছিলেন। আর তা হলো ভাগ্য। মাশরাফির কথা হচ্ছে, শুধু ভালো খেললেই হয় না। ভাগ্যও লাগে। নিউজিল্যান্ড ম্যাচে বাংলাদেশের হেরে যাওয়া, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বৃষ্টিতে পণ্ড হওয়া ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি, যে ম্যাচে জয় ছিল প্রত্যাশিত। এগুলো দুর্ভাগ্য হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। ফলে বাংলাদেশের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা অনিশ্চয়তার দোলাচলে দুলছে।

বিশ্বকাপে এর মধ্যে ছয় ম্যাচ খেলে টাইগারদের সংগ্রহ ৫ পয়েন্ট। আফগানিস্তানের বিপক্ষে তাদের পরের ম্যাচ আগামীকাল সোমবার সাউদাম্পটনে। ম্যাচ সামনে রেখে গত শুক্রবার উত্তর ইংল্যান্ডের নটিংহ্যাম থেকে দক্ষিণের সৈকত শহর সাউদাম্পটনে এসে পৌঁছেছে মাশরাফির দল। গতকাল স্থানীয় রোজ বোল স্টেডিয়ামে অনুশীলনও করেছে। তবে ঐচ্ছিক অনুশীলন হওয়ায় সবাই অংশ নেননি। 

চলমান বিশ্বকাপে অধিনায়ক পরিবর্তন, আভ্যন্তরীণ কলহ, বিতর্কের কারণে জর্জরিত আফগানরা। যদিও এবার বিশ্বকাপে তারাই অঘটন ঘটাবে বলে সবার ধারণা ছিল। বিপর্যস্ত বিশ্বকাপ মিশনে শুরুর ৫ ম্যাচের সবকটিই হেরেছিল তারা। তারপরও আফগানদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতেই হবে বাংলাদেশকে। কারণ এই দলটির কাছে অতীতে কয়েকবারই হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশের। এ পর্যন্ত তিনবার এই আফগানদের কাছে ধরাশায়ী হয়েছে বাংলাদেশ।

দুই দল এ পর্যন্ত সাতটি ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ চারটি ও আফগানিস্তান তিনটিতে জিতেছে। তিন জয়ের মধ্যে বাংলাদেশের মাটিতেই দুটি জয় পায় আফগানরা (২০১৪ এশিয়া কাপ ও ২০১৬ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ)। দুবাইতে গত বছর সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে দুইবার মুখোমুখি হয় তারা। প্রথমবার ১৩৬ রানে জিতেছিল আফগানরা। পরেরটিতে বাংলাদেশ জিতেছিল মাত্র ৩ রানে। এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় ২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জিতেছিল ১০৫ রানে। এছাড়া ২০১৬ সালে ঘরের মাঠে দুবার জয়ী হয় বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে চমক দেখালেও মূল টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত সব ম্যাচেই হেরেছে আফগানরা। একের পর ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে রয়েছে দলটি।

তিন ম্যাচ হারলেও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সাহসের প্রশংসা করেছেন অধিনায়ক মাশরাফি। এই বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত সেরা দশটি দলীয় স্কোরের মধ্যে দুটিই করেছে বাংলাদেশ। সাকিব দুটি ও মুশফিক একটি সেঞ্চুরি পেয়েছেন। তবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে চিন্তার কারণ বোলিং। বাংলাদেশের বোলাররা তেমন একটা সুবিধা করতে পারছেন না। বাংলাদেশের বিপক্ষে এ পর্যন্ত প্রতিপক্ষরা তিনটি তিন শতাধিক রানের স্কোর গড়েছে।

বড় সমস্যাটা তাই বোলিংয়েই। নতুন বলে উইকেট নিতে পারছেন না অধিনায়ক মাশরাফি। অথচ ক্যারিয়ার জুড়ে নতুন বলে উইকেট নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনিই ছিলেন বাংলাদেশের বড় ভরসা। মুস্তাফিজও শুরুতে উইকেট এনে দিতে পারছেন না। সঙ্গে রানও আটকে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন পেস বোলাররা। আবার উইকেট ব্যাটিং সহায়ক হওয়ায় ও টার্ন না থাকায় স্পিনাররাও তেমন একটা সুবিধা করে উঠতে পারছেন না। ৬ ম্যাচে বাংলাদেশের বোলাররা উইকেট নিয়েছেন ৩৫টি। তাই আগামীকাল আফগানদের বিরুদ্ধে বল হাতে বড়সড় উন্নতি করতেই হবে বাংলাদেশকে।

ছয় ম্যাচে মাত্র দুটি জয় পাওয়া বাংলাদেশের এখনও সম্ভাবনা আছে সেমিফাইনাল খেলার। সেজন্য পরের তিন ম্যাচেই জিততে হবে। ডু অর ডাই এর মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ পাড়ি দেওয়ার শুরুতেই আফগানদের সামনে পাচ্ছে বাংলাদেশ। জয়ের বিকল্প নেই টাইগারদের সামনে।

আফগানিস্তানের বড় শক্তি তিন স্পিনার মোহাম্মদ নবী, মুজিব উর রেহমান ও রাশিদ খান। ভালো ফর্মে না থাকলেও এই স্পিনার ত্রয়ীর বিপক্ষে ভালো করতে হলে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে বাংলাদেশকে। মাশরাফি ভালো করেই জানেন যে পচা শামুকেও পা কাটতে পারে। তাই আফগানিস্তানকে বুঝেশুনেই মোকাবিলা করতে হবে টাইগারদের।