স্পোর্টস রিপোর্টার
বয়স বেড়েছে, গতি কিছুটা কমেছে। শরীরের গড়নে পরিবর্তন এসেছে। পরিবর্তন আসেনি তার ঝাঁকড়া চুল, মুখশ্রীতে এবং পারফরম্যান্সে। ২২২ ম্যাচে ৩৩০ উইকেট নিয়ে ওয়ানডে ইতিহাসের দশম সেরা উইকেট সংগ্রাহক শ্রীলঙ্কার ফাস্ট বোলার লাসিথ মালিঙ্গা। ৩৫ বছর বয়সেও বল হাতে নিজের কার্যকারিতার প্রমাণ দিলেন তিনি। বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে এখনো শ্রীলঙ্কার জয়ের নায়ক এই ফাস্ট বোলার।
গত শুক্রবার হেডিলিংতে মালিঙ্গার অনন্য বোলিংয়েই লো-স্কোরিং ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২০ রানে পরাজিত করেছে শ্রীলঙ্কা। ৪৩ রানে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরাও হয়েছেন তিনি। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে চলে আসা মালিঙ্গার এই পারফরম্যান্সে বিমুগ্ধ শ্রীলঙ্কা। দলটির অধিনায়ক শুক্রবার ম্যাচের পর মালিঙ্গাকে, কিংবদন্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং এই পেসারের পারফরম্যান্স দলের সবার সামনেই উদাহরণ বলে মনে করেন তিনি।
অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের অপরাজিত ৮৫ রানে ৯ উইকেটে ২৩২ রান তুলেছিল শ্রীলঙ্কা। যা ইনফর্ম ইংলিশদের সামনে মামুলি টার্গেট বলেই ধরা হয়েছিল। কিন্তু এই টার্গেট পাড়ি দিতে গিয়েই পা হড়কায় স্বাগতিকরা। মালিঙ্গার চার উইকেট, ধনঞ্জয়ার তিনটি, উদানার দুটি উইকেট শিকারে ইংল্যান্ডকে আটকে দেয় লঙ্কানরা। বেন স্টোকসের অপরাজিত ৮২ রানের পরও ২১২ রানে অলআউট হয়ে হেরে যায় মরগানের দল।
বিশ্বকাপে আসলেও মাঝপথে শাশুড়ির মৃত্যুতে দেশে ফিরেছিলেন মালিঙ্গা। তারপরও এমন বোলিং এবং মালিঙ্গার পেশাদারিত্বে খুশি করুণারত্নে। তিনি বলেছেন, ‘আমি মনেকরি সে (মালিঙ্গা) কিংবদন্তি। সে জানে তার কি করতে হবে। সে যাই করুক, আমরা জানি সে তার সেরাটা দিচ্ছে। তাই আমি তাকে বলেছি, যদি তুমি দেশে ফিরতে চাও এবং ফিরে আসো, ঠিক আছে। সে ফিরে এসেছে এবং বাকি সবার জন্য উদাহরণ তৈরি করেছে।’
অফস্পিনার ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ৩২ রানে তিনটি, উদানা ৪১ রানে দুটি উইকেট নিয়ে দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন। বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার এটি দ্বিতীয় জয়। করুণারত্নে বলছেন, মালিঙ্গা টপঅর্ডার ভেঙে দেওয়ার পর ইংল্যান্ড আর ধাক্কাটা সামাল দিয়ে উঠতে পারেনি। তিনি বলেছেন, ‘সে যেটা ভালো পারে, সেটাই সে করছিল। এটাই মূল বিষয়। আমরা দেখতে চাই সে তরুণদের সামনে উদাহরণ তৈরি করছে এবং সে সত্যিই খুব ভালো কাজ করেছে।’
ধনঞ্জয়া-উদানার বোলিংয়ের প্রশংসাও করেছেন লঙ্কান অধিনায়ক। করুণারত্নে বলেছেন, ‘একই কাজ করেছে ধনঞ্জয়া। তারা দুজন খুব ভালো করেছে এবং ম্যাচটা ঘুরিয়েছে। এসব পারফরম্যান্সই ম্যাচটার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।’
ব্যাটিংয়ে ৩০ ওভারের সময় ১৩৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। ওই অবস্থান থেকে লঙ্কানদের স্কোরটা ২০০ পেরিয়েছে অভিজ্ঞ ম্যাথুসের হাফ সেঞ্চুরিতে। করুণারত্নে বলেছেন, ‘এটা ফ্লাট উইকেট মনে হয়েছিল। কিন্তু যখন খেলতে গিয়েছি, আপনি দেখবেন এটি ক্রমেই স্লো হতে শুরু করে। অ্যাঞ্জেলো (ম্যাথুস) আমাদের বলেছে, উইকেট স্লো থেকে স্লো হয়েছে। আমরা ২৮০-৩০০ রান করতে পারিনি, আমরা ২৪০ করেছি। এটা এই উইকেটে ভালো স্কোর।’
ম্যাথুসের প্রশংসায় করুণারত্নে বলেছেন, ‘সে (ম্যাথুস) ভালো ফিনিশার এবং সে খুব ভালো খেলেছে। এবং এই উইকেটে ম্যাচটা খুব ভালো ধরতে পেরেছে। ওপেনাররা আউট হয়ে যাওয়ায় মিডল অর্ডারটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সে খুব ভালো করেছে।’