স্পোর্টস রিপোর্টার
এএফসি কাপ ফুটবলের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে লড়াই করতে আজ দিনের ভাগেই ভারতে রওনা দেবে আবাহনী। সকালে উড়াল দিয়ে কলকাতা হয়ে গৌহাটিতে পৌঁছাবেন আবাহনীর ফুটবলাররা। আগামী ২৬ জুন গৌহাটিতে ভারতীয় দল মিনারভা পাঞ্জাবের বিপক্ষে আবাহনীর শেষ ম্যাচ। এই ম্যাচের উপর আবাহনীর আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল ভাগ্য নির্ভর করছে। ম্যাচ জিতলে আবাহনী আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবলের নতুন পথে হাঁটতে শুরু করবে। অনেক দিন ধরে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে আবাহনী শিরোপা পাচ্ছে না। সেই শেষ বার গৌহাটি হতে বরদুলই কাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আবাহনী। কিন্তু সেটিতো এএফসি কাপ ফুটবলের মতো বড় আসরের সঙ্গে তুলনা করার মতো না। ভারতের মাটিতে আবাহনীর একাধিক শিরোপা জয়ের রেকর্ড রয়েছে। নাগজি ট্রফি জয় করে আবাহনীর আসলাম, রুমীরা দেশের ফুটবলে দারুণ সাড়া ফেলেছিলেন। সেসব ইতিহাসের কথা ফুটবল দর্শকদের মনে রয়েছে। তবে এএফসি কাপ ফুটবলের দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম হতে যাচ্ছে হয়ত। সব কিছু নির্ভর করছে আবাহনীর ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের উপর। বুধবার ঢাকায় নেপালের মানাং মারসিংয়াদী ক্লাবকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে আবাহনী সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। এখন চাবি আবাহনীর হাতে। খেলোয়াড়রা নিজেদের বুঝতে পারছেন। অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ম্যাচটা যেন নষ্ট না হয়ে যায় সেদিকটাই এখন খেয়াল রাখতে হচ্ছে আবাহনীর পর্তুগীজ কোচ মারিও লেমসকে। গতকাল বিকালে শেষবারের মতো অনুশীলন করলেন আবাহনীর ফুটবলাররা। নিজেদের মাঠে নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার জন্য যা কিছু করা দরকার তার সবই করেছেন কোচ মারিও লেমস। ইনজুরিতে থাকা তপু এবং ফাহাদ যাচ্ছেন না। তারা না খেললেও দলের সঙ্গে গিয়ে খেলার দেখার আনন্দটুকু নিতে পারতেন। কিন্তু খেলোয়াড়দের আগ্রহ না থাকলে ক্লাব কর্তৃপক্ষই বা কিভাবে এগিয়ে যাবে।
আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিত দাস রুপু আগেই ভারতে গেছেন। সেখানকার সুযোগ-সুবিধাগুলো দেখেছেন। বলা যায় এডভান্সড টিম হিসেবে রুপুকে পাঠানো হয়েছিল। খেলোয়াড়রা বিমানবন্দরে নেমে কীভাবে যাবেন। কোন হোটেলে উঠবেন সেটা কীরকম সবার জন্য রুম নির্ধারণ করা। অনুশীলন মাঠ দেখতে যাওয়া। যেখানে ম্যাচ হবে সেই স্টেডিয়ামের মাঠ সম্পর্কে খোঁজ নেয়া। আবাহনী সূত্রে জানা গেছে কলকাতায় বসেই অনেক খবরাখবর নিয়েছেন রুপু। আজ যখন পুরো দল কলকাতায় নামবে তখন সবাইকে নিয়ে গৌহাটি যাবেন রুপু।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও আবাহনীর দুশ্চিন্তা অন্য জায়গায়। গতকাল আবাহনীর অন্য সব ফুটবলার ভিসা পেলেও অনিশ্চিতায় রয়েছেন দলের প্লেমেকার সানডে চিজোবা। আবাহনী সূত্রে জানা গেছে সবার সঙ্গে সানডের ভিসা আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। গতকাল আবেদন গ্রহণ করেছে। আশা করছে সানডের ভিসা হয়ে গেলে আগামীকাল রওনা দেবেন তিনি।