ভাড়া না পেয়ে ভাড়াটিয়ার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা!

 ‘হে আল্লাহ এক মাসের দোকান ভাড়া দিতে বিলম্ব হওয়ায় দোকানের শাটার বন্ধ করে আমার ছেলেরে মাইরা ফেলাইছে বাড়িওয়ালা হারুন সরকার ও তার লোকজন। এ কি অইল, বাবা সাইফ একটু কথা কও, আল্লাহ রে আমার ছেলে কথা কয় না কেন?’

এভাবেই আর্তনাদ করছিলেন নিহত সাইফ আলীর (১৪) শোকাহত বাবা আব্দুল কাইয়ুম ও মা সাহিদা বেগমসহ তার স্কুলপড়ুয়া বোন। গতকাল শনিবার সকালে টঙ্গীর স্টেশন রোডের মাছিমপুরে হারুন সরকারের জারা মার্কেটে এক মাসের দোকান ভাড়া দিতে বিলম্ব হওয়ায়   ‘নিউ মা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপে’র ভাড়াটিয়া আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে সাইফকে নির্মম ভাবে পিটিয়ে ও লেদ মেশিনে পেঁচিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হারুন সরকারের বড় বোন শেলি সরকারের ছেলে শাহাদত্ সরকার স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি হাসান উদ্দিন সরকারের ভাতিজা এবং হারুন সরকারের ভাগনে। যান আপনাদের যা ইচ্ছে লিখে দিন। ওরা আমার মামার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। লিখুন আমিও এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত যা হয় হবে।’ 

শেলি সরকার স্থানীয় সাংবাদিকদের তাঁর বাসায় ডেকে নিয়ে বলেন, ভাড়াটিয়ার ছেলেকে আমার ভাই হারুন মেরেছে— এ অভিযোগ সত্য নয়। ছেলেটি নেশা করত বলে জানি। তিনি সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ না করতে নির্দেশ দেন।  

নিহতের পিতা আব্দুল কাইয়ুম জানান, দোকানের মালিক হারুন সরকার তার কাছে এক মাসের দোকান ভাড়া বাবদ ১৫ হাজার টাকা পান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দোকান মালিক হারুন সরকার ভাড়ার টাকার জন্য দোকানে আসেন। এসময় আমাকে এবং টাকা না পেয়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং আমার ছেলে মাদ্রাসাপড়ুয়া সাইফকে দোকানের ভেতর মারধর করে লেদ মেশিনে তাঁর পাঞ্জাবি পেঁচিয়ে মেশিন চালু করে বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে যান। আশপাশের লোকজন চিত্কার শুনে দোকানের তালা ভেঙে লেদ মেশিনে পেঁচানো অবস্থায় সাইফকে উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত সাইফ দিনাজপুর জেলার কোতোয়ালি থানার মাঝাভাঙ্গা গ্রামের আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে। সে উত্তরার একটি মাদ্রাসায় হাফেজি পড়তো।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত হারুন সরকার পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।