মির্জাপুরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বাইকার গ্রুপ ও কিশোর গ্যাং গ্রুপের শতাধিক সদস্য। বাইক চালিয়ে অপরাধ করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কিশোর গ্যাং গ্রুপের সন্ত্রাসীরা। এই গ্রুপের সদস্যরা বাইকার গ্রুপ নামে পরিচিত। বাইক নিয়ে অপরাধ করে সহজেই সটকে পড়ছে এই গ্রুপের সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও এদের কাছে অসহায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উঠতি বয়সের কিশোররা এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত। সড়ক মহাসড়কে দল বেধে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মারামারি, মাদক ব্যবসা এবং অপহরণসহ নানা অপরাধের সঙ্গে এই গ্রুপের সদস্যরা জড়িত। স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার কিশোর গ্যাং গ্রুপের হামলায় অন্তত ১২ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী আহত হয়েছে। কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যের ভয়ে নিরীহ ছাত্ররা পুলিশ পাহারায় এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে।
গতকাল বুধবার ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খান আহমেদ শুভ এমপি এ বিষয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং মাদক নির্মূলসহ কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যদের গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের কোনো অবস্থায় ছাড় দেওয়া হবে না। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নের শতাধিক স্পটে কিশোর গ্যাং গ্রুপ নানা অপরাধ করে যাচ্ছে। একটি বাইকে তিন-চার জন উঠে রাস্তা দখল করে বিভিন্ন অঙ্গ-ভঙ্গিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এই ফাঁকে নিরীহ লোকজনকে জিম্মি করে ছিনতাই, ডাকাতি করে সটকে পরে। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়, স্কুল-কলেজের সম্মুখ, হাইওয়ে রোড, বিভিন্ন কোচিং সেন্টার এবং বাসাবাড়ির সামনে এদের আড্ডা চলে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে অন্তত ১০ জন এই প্রতিনিধির কাছে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন।
শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. সালাউদ্দিন আহমেদ বাবর, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই জন প্রধান শিক্ষক এবং তিন জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যদের হাতে এলাকাবাসী জিম্মি হয়ে পড়েছে। এই গ্রুপের সদস্যদের হাতে কুরনী জালাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী হামলার শিকার হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবিতে অভিভাবক ও এলাকাবাসী ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেছেন, কিশোর গ্যাংসহ মাদক ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের তালিকা তৈরি করে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাকিলা বিনতে মতিন বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনশৃঙ্খলা ভালো রাখার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।