গ্যাস বন্ধে বিপাকে চট্টগ্রামবাসী

চট্টগ্রাম-বাখরাবাদ গ্যাস সঞ্চালন লাইনে টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে জাতীয় গ্রিড থেকে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর গত শনিবার থেকে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। হঠাত্ করে লাইনের গ্যাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে আবাসিক গ্রাহকরা। কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছেন গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরো ছয়-সাত দিন সময় লাগতে পারে। লাইনের গ্যাস হঠাত্ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলপি গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে খুচরা বাজারে কাড়াকাড়ি চলেছে। দোকানে সিলিন্ডার গ্যাস না পেয়ে ক্রেতারা বিপাকে পড়েছে। গ্যাসের সংকটের সুযোগ নিয়ে অসাধু দোকানিরা প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি করেছে।

জানতে চাইলে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রাম-বাখরাবাদ গ্যাস সঞ্চালন লাইনের কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে জাতীয় গ্রিড থেকে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। এমনিতে অন্যান্য অঞ্চলেও গ্যাস সংকট রয়েছে। চাহিদা অনুপাতে উৎপাদন কম। আশা করি দুই-এক দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ চালু করা সম্ভব হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে হঠাৎ করে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহে বিপর্যয় নেমে আসে। মহেশখালীর ধলঘাট এলাকায় এলএনজি স্টেশন রয়েছে। সেখান থেকে ১২ থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে সাগরে এলএনজি ভাসমান টার্মিনাল দুটির অবস্থান। সাগরের তলদেশ দিয়ে রয়েছে পাইপলাইন। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কেটে  গেলে দ্রুত সময়ে এলএনজি সরবরাহ চালু করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে লাইনের গ্যাস হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামে আবাসিক খাতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। হোটেল রেস্টুরেন্টগুলোও সমস্যায় পড়েছে। এতে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার বেড়ে গেছে। গতকাল খুচরা বাজারে এলপি গ্যাস বিক্রি নিয়ে নৈরাজ্য চলেছে। দুপুর ১২টার মধ্যে বাজারে এলপি গ্যাসের সংকট দেখা দেয়। দোকানিদের কাছে যা মজুত ছিল তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি হয়ে যায়। চাহিদা বাড়তি সুযোগে দোকানিরা প্রতি সিলিন্ডারে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি করেছে। ক্রেতারাও নিরুপায় হয়ে বাড়তি দামে গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয় করেছে। বাসাবাড়িতে মাটির চুলায়, রাইচ কুকার, কেরোসিনের চুলা, ইলেকট্রিক চুলায় রান্নাসহ মানুষ প্রয়োজনীয় কাজ সেরেছেন।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে ৫ লাখ ৯৯ হাজার আবাসিক ও ২ হাজার ৮৮৪টি বাণিজ্যিক সংযোগ রয়েছে। এসব গ্রাহক লাইনের গ্যাস ব্যবহার করে থাকেন।

এলপি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ এজাজুল হক ইত্তেফাককে বলেন, ‘চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট তৈরি হয়েছে। বিক্রেতাদের প্রস্তুতি ছিল না। দিনে যেখানে দুই-তিনটার বেশি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হয় না সেখানে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে স্টক খালি হয়ে গেছে। বাজারে ৩০ শতাংশ গ্যাস সিলিন্ডারের চাহিদা বেড়ে গেছে।’

বাজারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এলপি গ্যাস বটলিং কোম্পানিগুলো তাদের কারখানায় বটলিং বাড়িয়ে দিয়েছে। বাজার থেকে ডিলাররা বাড়তি চাহিদা পাঠিয়েছেন কোম্পানির কাছে। এ ব্যাপারে এলপি গ্যাস বটলিং কোম্পানি বিন হাবিব লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিন সালমান ইত্তেফাককে বলেন, বাজারে গ্যাস সংকট হঠাৎ তৈরি হয়েছে। আমরা আগেভাগে প্রস্তুত ছিলাম না। এখন বাজার থেকে চাহিদা পাওয়ার পর বটলিংয়ের সকল কোম্পানি সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের যা স্টক আছে তা বটলিং করে বাজারের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা চলছে।’