কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় হাজার হাজার একর জমি পানির নিচে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে হাজার হাজার একর ফসলি জমি বছরের পর বছর ধরে পানির নিচে তলিয়ে থাকার কারণে কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশার সীমা নেই। পৌর এলাকার ছড়া ও খালগুলো সংস্কারে বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কবলে পড়ে তা আর হচ্ছে না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সীতাকুণ্ড পৌর এলাকায় অনেকগুলো ছড়া ও খাল রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ এ ছড়া ও খালগুলো সংস্কার না করায় বর্ষা মৌসুমে অতিবর্ষণ বা ভারী বর্ষণে পাহাড়ি ঢলের কারণে সর্বদা জমিতে জলাবদ্ধতার ফলে কৃষকরা কৃষিকাজ করতে পারে না। এমনকি বসতবাড়ি পানিতে ডুবে মানুষের বসবাসে অনুপযোগী হয়ে উঠে। তখন রাস্তাঘাটগুলোও জনগণের চলাচলের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। আর এ জলাবদ্ধতা বছরের পর বছর থাকার ফলে পৌর এলাকার কৃষি জমিগুলো অনাবাদী হয়ে পড়ে থাকে। এতে কৃষকরা বছরে শত কোটি টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হয়। এ জলাবদ্ধতায় স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের চলাচলে অনেক কষ্ট ভোগ করতে হয়। কৃষক ও জমি মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পৌর মেয়র স্থানীয় কাউন্সিলরদেরকে ছড়া বা খালগুলো সংস্কারের দায়িত্ব দেন। কোনো কোনো খাল জমির মালিকদের উপস্থিতিতে সার্ভেয়ার দ্বারা পরিমাপ করে চিহ্নিত করা হয়। 

sitakundo citagong-2

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে খালের পাড়ে জমিতে চাষাবাদ করছি। কিন্তু খাল সংস্কার না হওয়ায় বৃষ্টির সময় কষ্ট করতে হয়। তাছাড়া ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। এখন খাল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির পাশাপাশি বর্ষা পরবর্তী জমে থাকা পানি কৃষকের উপকারে আসবে।

স্থানীয় কাউন্সিলর মো. ফজলে এলাহী বলেন, এলাকাবাসীর দাবিতেই মেয়র খালটি সংস্কার করতে নির্দেশ দেন। সংস্কারের প্রয়োজনেই খাল পাড়ের কিছু গাছ জমির মালিকরা কেটে নিয়ে যান। যেহেতু সংস্কারের জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি তাই কিছু মাটি বিক্রি ও কবরস্থানের জন্য দেওয়া হয়। এছাড়াও নতুন করে যেহেতু সংস্কার করা হয় খালটি, বর্ষা পরবর্তী সময়ে পাড়ের যেকোনো অংশ ক্ষয়ক্ষতি হলে তা জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

sitakundo citagong-4

পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলম বলেন, পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা একপ্রকার অভিশাপ। তাই খাল সংস্কার জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে প্রায় সব ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কাউন্সিলরদের নির্দেশনা দিয়েছি এলাকাবাসীর নিয়ে খালগুলো যেন দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করে। যেহেতু সরকারি বরাদ্দ পাচ্ছি না, সেহেতু যাবতীয় ব্যয় বহনে প্রয়োজনে মাটি বিক্রি করে হলেও যেন সংস্কার করা হয়। খালগুলো দ্রুত সংস্কার করে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করা হবে। এজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী নাহিদুজ্জামান বলেন, দ্রুত এটা সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।