ধানের দাম বেশি হলেও উৎপাদন খরচ উঠছে না কৃষকের

ধার করা পুঁজি খরচ করে মাথার ঘাম পায়ে ঝরিয়ে আবাদ করেও লোকসান গুণতে হচ্ছে কৃষকের। সার, বীজ, চারা, পানি, শ্রমিক ও হালের দাম চড়া। ফলে বোরো ধান উৎপাদনে চলতি মৌসুমে খরচ হয়েছে প্রায় দেড়গুণেরও বেশি। বাজারে উঠতি ধানের দাম মণ প্রতি ১০০-১৫০ টাকা বেশি হলেও কৃষকদের গুণতে হচ্ছে লোকসান। 

উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সিমলা গ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তার জানান, সাড়ে সাত বিঘা জমিতে করেছেন বোরো ধানের আবাদ। পাঁচ বিঘায় কাটারিভোগ, এক বিঘায় ব্রি-ধান ২৮ ও দেড় বিঘায় করেছেন হাইব্রিড হিরা। সার, বীজ, চারা, পানি, শ্রমিক ও হালের দাম অনেক বেশি। এবার প্রতি বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন খরচ হয়েছে দুই থেকে তিন হাজার টাকা বেশি। গত বছর প্রতি বিঘা জমিতে বোরো আবাদে খরচ হয়েছিল সাত থেকে নয় হাজার টাকা। এবার হয়েছে দশ থেকে বার হাজার টাকা খরচ। এছাড়াও নাবি (দেরি) হওয়ার কারণে এবার ধানে ফলন হয়েছে কম। 

ধান

সরেজমিনে জানা গেছে, যে সকল কৃষক আগাম বোরো ধান ঘরে তুলেছেন তাদের ফলন হয়েছে ভালো। তারা খরচ পুষিয়ে কিছুটা লাভের মুখ দেখেছেন বলে দাবি করলেন উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক নাজমুল হোসেন। তিনি বলেন, যারা সরিষা আবাদ করেছিল তাদের বোরো ধান আবাদ নাবি হয়েছে। অধিকাংশ জমিতেই সরিষা আবাদের কারণে এবার ধান নাবি হয়েছে। নাবি ধানে রোগ বালাইয়ের (কারেন্ট পোকা) আক্রমণ ও প্রচণ্ড খরার প্রকোপ হয়েছে। এতে ফলন হয়েছে কম। অনেকের চারার বয়স বেশি, রোপন করতে হয়েছে নাবিতে। তাদের জমিতে চারা রোপনের এক দেড় মাস পরই ধানের শীষ বেরিয়ে গেছে। ফলন কম অথচ খরচ বেশি হওয়ায় তাদের লোকসান গুণতে হচ্ছে। 

ধান

উপজেলার চান্দাইকোনা হাটের ধান-চাল ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার মণপ্রতি ধানের দাম ১০০-১৫০ টাকা বেশি। মিনিকেট প্রতি মণ ১,৩০০-১,৩৫০ টাকা, কাটারিভোগ ১,২৭০-১,৩০০ টাকা। হিরা ও হাইব্রিড মোটা ধান প্রতিমণ তারা কিনছেন ৯৫০-১০০০ টাকা। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফ জানান, চলতি বোরো মৌসুমে বোরো চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার ৩৭০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ১৯ হাজার ৪৩০ হেক্টর। গড় ফলন হয়েছে মোটমুটি ভালো। তবে অতিরিক্ত খরার কারণে নাবি ধানের আশানুরূপ ফলন হয়নি।