মৌসুমি ফলের মধ্যে কাঁঠাল সবচেয়ে বড়। বাংলাদেশের জাতীয় ফল। আকারের দিক থেকে সম্ভবত কাঁঠাল বিশ্বের বেশি ওজনের ফল। সর্বোচ্চ ৮০ কেজি পর্যন্ত হয়। দেশের সব জায়গাতেই কমবেশি কাঁঠাল পাওয়া গেলেও সবচেয়ে বেশি উত্পন্ন হয় গাজীপুরে। দেশের বড় কাঁঠালের বাজার শ্রীপুরের জৈনাবাজার। পাকা ফলটির রসালো হলুদ রঙের কোয়া সবার প্রিয়। পুষ্টিকর খাবার। প্রচুর শর্করা, আমিষ, ভিটামিন ও খনিজ লবণ সমৃদ্ধ ফলটি দেহের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখতে কাঁঠাল বেশি বেশি খাওয়া উচিত। কাঁঠাল বদহজম রোধ করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। হূদরোগের ঝুঁকি কমায়। উচ্চ রক্তচাপ উপশম করে। তাছাড়াও কচি কাঁঠাল উন্নত মানের সবজি। কাঁঠালের বীজ থেকেও আমরা শর্করা পাই। এক কথায় কাঁঠালের কোনো অংশই ফেলনা নয়। কাঁঠালের ছোবরা গবাদি পশুর পুষ্টিকর খাদ্য। অন্যদিকে কাঁঠালের কাঠ থেকে উন্নতমানের আসবাবপত্র তৈরি হয়।
বর্তমানে কাঁঠাল গাছের কাণ্ডপচা রোগটি মহামারী আকার ধারণ করায় কাঁঠাল উত্পাদন কমে আসছে। কাঁঠাল চাষিরা নতুন চারা রোপণে আগ্রহী হচ্ছেন না। অনেকের ধারণা রোগটি ছত্রাকজনিত। রোগটি প্রতিরোধে কৃষিবিদদের এগিয়ে আসা উচিত। কাঁঠাল ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় অপরিপক্ব ফলে কার্বাইড ও কেমিক্যাল মিশিয়ে পাকাচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। আমরা চাই বহু বর্ষজীবী জাতীয় ফল কাঁঠাল রক্ষায় সবাই উদ্যোগী হবেন।