হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী
২০২০ সালে ১০ কোটি মানুষ ডিজিটাল সেন্টারের সেবার আওতায় আসবে। আর আগামী বছর ২০২০ সাল বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী। জনগণকে সঠিকভাবে আরো সেবা দানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে প্রকৃতভাবে স্মরণ করা হবে—এমন মন্তব্য করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ৫ হাজার ২৯৩টি ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে দেড়শ-এর বেশি সেবা প্রদান করা হচ্ছে। প্রতি মাসে ৫০-৬০ লাখ মানুষ সেবা গ্রহণ করছে। আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী ও ডিজিটাল সেন্টারে ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আরো একশটি সেবা ডিজিটাল সেন্টারের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে যাতে ২০২০ সালের লক্ষ্য অর্জন করা যায়। গত বৃহস্পতিবার সিলেটে পৃথক পৃথক সমাবেশে ব্যস্ত সময় কাটান এবং সরকারের উন্নয়নমূলক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।
নগরীর আমানউল্লাহ কনভেনশন হলে ডিজিটাল সেন্টার পরিচালনাকারীদের নিয়ে বিভাগীয় উদ্যোক্তা সম্মেলন-২০১৯ এ প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন। সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় প্রধান অতিথি আরো বলেন, সারাবিশ্ব এখন আমাদের ডিজিটালাইজেশনের গল্প শুনতে চায়। এই সরকারের যে সাফল্যের গল্পগুলো দেশ-বিদেশে আলোচিত হয় তার মধ্যে ডিজিটাল সেন্টার একটি। যা দেশ-বিদেশে সুনাম ও মর্যাদা অর্জন করেছে। সারাবিশ্বে যেখানেই আমরা যাই জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটালাইজেশনের কথা শুনতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে তারা। কীভাবে আমরা তা করলাম জানতে চায়। ডিজিটাল সেন্টারের শুরুর সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্গম অঞ্চল চর কুকরিমুকরিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ডিজিটাল সেন্টারের উদ্বোধন করেছিলেন। তখন এগারোশ ইউনিয়নে কোনো বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকায় সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে সেসব ইউনিয়নে ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। সে সময় প্রত্যন্ত গ্রামের অনেক মা বিদেশে তার ছেলের সঙ্গে প্রথম ভিডিও কলে কথা বলার সময় যে আবেগঘন ঘটনার অবতারণা হয়েছিল তার সাক্ষী আপনারা অনেকেই। তিনি বলেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশে প্রথমে শহরে পরে ধীরে ধীরে গ্রামে ডিজিটালাইজেশন হয়েছে। শুধু বাংলাদেশে প্রথমে গ্রামে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পরে পৌর ও নগর ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়। যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ইউনিক এপ্রোচ।
‘বাড়ছে সেবার বহর, গ্রাম হবে শহর’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এটুআই প্রকল্প পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম। এটুআই এর লোকাল ডিজিটালাইজেশন প্রকল্পের কর্মকর্তা পারভেজ হাসানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তারা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। সবার বক্তব্যে ডিজিটাল সেন্টারগুলোর জন্য উচ্চগতির ইন্টারনেট ও সেবার বহর বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচিত হলে মন্ত্রী তা পূরণের আশ্বাস দেন।
সিলেটে দুটি বৃহত্ প্রকল্প চলছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল সিলেট পাইলট প্রকল্পের আওতায় ডিজিটাল শহর শুধু নয়, জননিরাপত্তার জন্য ২৫০টি ফেইস রিকগনাইজ অত্যাধুনিক ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া সিলেট শহরে আইসিটিতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে ট্রেনিং, ওরিয়েন্টেশন ও ওয়ার্কশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন যুবক-যুবতিদের জন্যও ট্রেনিং-এর সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের সালুটিকরে শেখ মুজিবুর রহমান হাইটেক পার্ক স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেটে বসেই এখন সিলেটের তরুণ-তরুণীরা মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ ইলেকট্রনিক ডিজিটাল ডিভাইস ও সফটওয়ার তৈরি করবে। তিনি বলেন, অল্পদিনের মধ্যেই সিলেটের মাটি থেকে পুরো বিশ্বকে সেবা প্রদান করা হবে । সিলেটের জনগণ সারাবিশ্ব থেকে নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা দেশে প্রেরণ করে দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন। প্রধান অতিথি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা আপনাদের মেধা ও শ্রম কাজে লাগিয়ে নিজেরাই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।
মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল সেন্টারের আওতায় সেবার পরিমাণ বাড়ানো হবে ফলে আয়ও বাড়বে। তার জন্য যে সাহায্য সহযোগিতা প্রয়োজন তা আপনাদের দেওয়া হবে। আয় বাড়াতে নিজের প্রতিষ্ঠানে ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি। প্রয়োজনে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবগুলোতে তাদের ট্রেনিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে।