ভ্যাট আরোপের চিন্তা ও কদম আলীর শঙ্কা

প্রিয় পাঠক, কদম আলী আমার একটা কাল্পনিক চরিত্র। যিনি জানেন, সমাজে মূল্যায়িত হয় ডিগ্রিধারীগণ কিন্তু তার ডিগ্রি নেই। সত্য বলার সাহস, অনুপ্রেরণায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। মনে হতে পারে আসলে সে সরকার না ব্যবসায়ীর পক্ষে। বাস্তবতা হলো সত্য বলা যা কখনও উভয় কুল রক্ষা করা যায় না। আসলে তেল মারা কদম আলীর রক্তে নেই। যা হোক সেই ভ্যাট আইন এবারের বাজেটে ভোক্তাকে কী উপহার দিচ্ছে। কদম আলীর চিন্তায় ব্যাবসায়ী কারণ উনারা সরকারের ভ্যাট আদায়ের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এদের ভ্যাট সচেতনার উপর নির্ভর করে ভোক্তা অধিকার অর্থাৎ ন্যায্য মূল্যে ভোক্তা পর্যায়ে যেতে ভ্যাট আইনের ব্যবহার জানার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাবসায়ী না বলে ভোক্তা বলার কারণ হলো ভ্যাট যা বাড়বে সেটার সমন্বয় বা ব্যবহারের ওয়ে আউট না করে, সরাসরি দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি করে দেবেন। বাজেটে ভ্যাট আদায় করার লক্ষমাত্রা ১.৬০ লাখ কোটি টাকা। বিগত পঞ্চাশ বছরের মধ্যে গত অর্থ বছরে লাখের ঘর পার করেছিল। এবারও হয়ত লাখের সামান্য কিছু উপরে যেতে পারে, সেটাও সিউর না। কদম আলী তো বহু দিন থেকে বহু উপায়ে বলে আসছে, যত যাই হোক দেশকে এগিয়ে নিতে রাজস্ব আদায়ের বিকল্প নেই। সেটা কঠোর ভাবে প্রয়োগ করার আগে এটার ব্যবহার শিখি কিন্তু কদম আলীর ডিগ্রি নাই, তার বলা কথাও মূল্যহীন। তবে কদম আলী এতে সামান্যতম বিচলিত নয় বরঞ্চ তার ব্রত সে বলে যাবে ‌‘সঠিক ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় দ্রব্য মূল্য হ্রাস সম্ভব’।

বর্তমান বাজেটে ১.৬০ লাখ কোটি টাকা লক্ষমাত্রা ধরে এনবিআর আদায়ের জন্য যে সমস্ত পরিকল্পনা নিচ্ছেন সেটা ব্যবসায়ীদের সামান্য চিন্তার কারণ হলেও মূল চাপ গিয়ে পড়বে সাধারণ মানুষের উপর যারা নজরুরের ভাষায় নিপীড়িত ও বঙ্গবন্ধুর ভাষায় শোষিত। দেশে বর্তমানে বারোটা ভ্যাট কমিশনারেট আছে। সেটা আরো বৃদ্ধি করা হবে। খুচরা পর্যায়ে ভ্যাট আদায় বৃদ্ধি করতে ইএফডি মেশিন বসানো ও সেটা তদারকির জন্য পাবলিক সেক্টর থেকে এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া হবে। গোয়েন্দা নজরদারি ও অডিট কার্যক্রম বাড়ানো হবে। কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া বাকি সব পণ্য ভ্যাট অভোহতি বাতিল বা হ্রাস করা হবে। কিছু শিল্পের পণ্যের উপর এম আর পি ধরে দেওয়া হবে এবং সেগুলোর উপর টার্গেট ঠিক করা হয়েছে সেখান থেকে কতো পরিমাণ ভ্যাট আদায় করা যাবে সেটাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

কদম আলী এতদিন যে অবস্থার কথা চিন্তা করে ব্যবসায়ীদের বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন যে সেই দিন আসছে, যার আগে যদি আপনার ব্যবসায়ের ধরন অনুসারে সিস্টেম উন্নয়ন করে না নেন তাহলে...। সরকার এবারের বাজেটে র‌্যাপিড রিকভারি টিম নামে বকেয়া ভ্যাট দ্রুত আদায় করতে টিম গঠন করেছেন। এ ধরনের টিম আনতে এনবিআর বাধ্য হবে সেটা ব্যবসায়ীদের আচরণ থেকে বোঝা যাচ্ছিল। বাজেটের টার্গেট অনুসারে বর্তমান আদায়ের চেয়ে আরো অধিক আদায় করতে হবে ৪৫/৫০ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান অবস্থায় ব্যাবসায়ীর ভ্যাট এর চিন্তায় ঘুম হারাম, আর বাকি টাকার দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে আর সেটা যদি হয় বিগত বছর সমূহের। যা কোন ভাবে ভোক্তার উপর চাপানো যাবে না।

কদম আলীর চিন্তায় ভ্যাট হলো ভোক্তা কর, ভোক্তার যত বেশি ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে তত বেশি এ কর আদায় করা যাবে। বর্তমান বাজারে দ্রব্য মূল্য অনুসারে মধ্যবিত্তের অনেক কাটছাঁট করতে হচ্ছে এরপর আরো বাড়তি? কদম আলীর সেই চিন্তা কি এখন থেকে বাস্তবায়ন হবে, দেশে দুই শ্রেণির মানুষ থাকবে এক ধনী আর দ্বিতীয় হলো নিম্ন শ্রেণি। মধ্যবিত্ত শ্রেণি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া শুরু হবে। ধনী রাষ্ট্রগুলোর কাঠামো তাই বলে। তবে নিরাশাবাদি মানুষ কদম আলী নয়, সে তার কাজ চালিয়ে যাবে আগের চেয়ে আরো অধিক গতিতে।

লেখকঃ ভ্যাট বিশেষজ্ঞ, তিনি ভ্যাটবন্ধু নামে পরিচিত