২০০৮ সালে নির্বাচনে জয় লাভ করিয়া আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়িয়া তুলিবার উপর জোর দিয়াছিল। সেই অনুযায়ী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরসহ সরকারি অফিসগুলিকে ডিজিটালাইজড করিবার চেষ্টা চলিতেছে। ইহার মধ্যে ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজড করিবার প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বের সহিত পরিলক্ষিত হইতেছে। ভূমিসংক্রান্ত কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশনের লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় এযাবত্ যেই সকল প্রকল্প গ্রহণ করিয়াছে তাহা সমন্বিতভাবে আগাইয়া লইবার চেষ্টা চলিতেছে। ইতিমধ্যে কিছু এলাকায় ই-সেবা চালু হইয়াছে। মান্ধাতার আমলে ভূমি জরিপের পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জরিপ, ডিজিটালাইজড ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক আকারে পাইলট প্রকল্প শুরু এবং খতিয়ান ও নামজারি ডিজিটালাইজেশনের কাজ চলমান রহিয়াছে। সরকার রাজধানীর তেজগাঁয় ১৫ তলা বিশিষ্ট আধুনিক ভূমি ভবন কমপ্লেক্স তৈরি করিতেছে। সরকারের মন্ত্রী পর্যায় হইতে একাধিকবার বলা হইয়াছে, ২০২০ সালের মধ্যে ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজেশন সম্পন্ন করা হইবে। এইসব অগ্রগতিকে আমরা অস্বীকার করি না; কিন্তু সেই অনুযায়ী ভূমিব্যবস্থাপনা ডিজিটাল করিবার কাজ প্রয়োজনীয় গতি পাইয়াছে কি? ২০২১ সালের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়কে সার্বিকভাবে ডিজিটালাইজড করিয়া তোলা সম্ভব হইবে কি? কবে নাগাদ গোটা দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে এই সেবা পৌঁছাইবে?
ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজ করিবার এই কাজ সহজ নহে। আমরা জানি, গোটা দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় জটলা পাকাইয়া আছে। ভূমি অফিসগুলি সেই ব্রিটিশ আমল হইতেই দালালচক্র, অসত্ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আখড়ায় পরিণত হইয়াছিল। নকশা খতিয়ান হইতে শুরু করিয়া দলিল-দস্তাবেজ লইয়াও রহিয়াছে নানা অনিয়ম। অধিকন্তু অর্পিত সম্পত্তি, পরিত্যক্ত সম্পত্তি, ওয়াকফ সম্পত্তি লইয়া নানা অনিয়ম ও জটিলতা বিদ্যমান রহিয়াছে। ইহা ছাড়াও বহু সরকারি জমি ব্যক্তির নামে এবং ব্যক্তির জমি সরকারের নামে রেকর্ড হইবার অভিযোগ আছে। এইসব বহুবিধ কারণে ভূমি লইয়া ঘরে ঘরে বিবাদ লক্ষ করা যায়। আদালতে ভূমি সংক্রান্ত ১৮ লক্ষের অধিক মামলা রহিয়াছে। এই সকল বিড়ম্বনা হইতে দেশবাসীকে উদ্ধার করিতে হইলে ভূমি ব্যবস্থাপনার ডিজিটালাইজেশনের কোনো বিকল্প নাই; কিন্তু গোটা দেশে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে মান্ধাতা আমলের ভূমি ব্যবস্থাপনায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসিবে। তাই পরামর্শ থাকিবে, যত দ্রুত সম্ভব ভূমি খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ ডাটাবেজে সংরক্ষণ, অনলাইনে খতিয়ানের নকল উত্তোলন, অনলাইনে নামজারির আবেদন গ্রহণ, মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে সেবাগ্রহণকারীকে নামজারির অবস্থা অবহিতকরণের মতো ব্যবস্থা গোটা দেশে যত দ্রুত সম্ভব নিশ্চিত করা হউক। সেইসঙ্গে ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের উপরও গুরুত্ব দিতে হইবে।