আফগানদের সমীহ করছে বাংলাদেশ

আফগানিস্তানকে ভয় পাচ্ছেন না, তবে সমীহ করছেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ স্টিভ রোডস। এই বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত একটাও জয়ের দেখা পায়নি গুলবাদিন নায়েবের দল। কিন্তু গত ম্যাচে ভারতের সাথে তারা যেভাবে শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াই করেছে তা অনেকদিন মনে রাখার মতো।

ওডিআই ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ভারতের কাছে মাত্র ১১ রানের পরাজয় আফগানদের প্রতি সমীহ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের প্রধান কোচের। স্টিভ রোডস বলেন, ‘র্যাংকিয়ের কথাই যদি বলেন, বাংলাদেশ আফগানিস্তানের চেয়ে হয়তো এগিয়ে আছে। কিন্তু তারা গত কিছুদিন ধরে ক্রিকেটে অসাধারণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ গত ২০ বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যেভাবে অনেকখানি এগিয়েছে ঠিক সেভাবে আফগানরাও গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জায়গা করে নিয়েছে। দুটি দেশেই ক্রিকেট সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে আফগানিস্তানের অগ্রগতি সত্যি বিস্ময়কর। দুটি বিকাশমান ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ মুখোমুখি হচ্ছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে দর্শকরা একটা উপভোগ্য ম্যাচই দেখতে পাবেন।’

গতকাল ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কোচের কাছে জানতে চাওয়া হয়, বিশ্বকাপে এবার সম্পূর্ণ আলাদা এক প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। যাদের স্কোয়াডে তিনজন বিশ্বমানের স্পিনার আছেন। তাদের নিয়ে আলাদা কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না জানতে চাইলে কোচ বলেন, ‘তাদের স্পিন ডিপার্টমেন্ট সমীহ করার মতো। রশিদ খান, মুজিব উর রেহমান, মোহাম্মদ নবী খুব ভালো বোলিং করেন। রশিদ খানের কথাই যদি বলি, সে ইংল্যান্ডের ইয়ন মর্গানের সাথে সুবিধা করে উঠতে না পারলেও সে সাধারণ খুবই আগ্রাসী বোলার। নবী ও মুজিব খুবই কোয়ালিটি বোলার। আমরা তাদেরকে ভয় পাই না। তবে সমীহ করি। আমরা এ পর্যন্ত যাদের মোকাবিলা করেছি তারা ছিল নন স্পিন টিম। এবার প্রথম আমরা এমন টিমের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি যাদের টপ স্পিন বোলার আছে। আফগানিস্তান ম্যাচে জয়ের আশা প্রকাশ করে কোচ বলেন, তারা কঠিন প্রতিপক্ষ। তারা ভারতের সাথে খুব ভালো লড়াই করেছে। গত এশিয়া কাপে তারা আমাদেরকে প্রথম ম্যাচে হারিয়ে দিয়েছিল। পরেরটিতে অবশ্য আমরা তাদেরকে হারিয়েছিলাম। ম্যাচটি যে কঠিন হবে সেটা আমরা জানি।’

ভারত-আফগানিস্তান ম্যাচ টিভিতে দেখেছিলেন স্টিভ রোডস। ম্যাচ দেখার পর সাউদাম্পটনের উইকেট সম্পর্কে তার ধারণা জানতে চাইলে কোচ বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে উইকেট একটু ধীরগতির। মাঠের বাউন্ডারি সীমানা বড়। তাই এখানে চার, ছক্কা তেমন একটা হবে না। আমাদেরকে এক, দুই বা তিন রানের দিকে মনোযোগী হতে হবে।’

পরের তিনটি ম্যাচই বাংলাদেশের জন্য ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ। এটা কি দলের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। কোচ বলেন, ‘আপনি যদি শুধু এমনটাই ভাবতে থাকেন যে, স্পিন অ্যাটাক কিভাবে মোকাবেলা করবেন, টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে যাচ্ছে আর সামনের ম্যাচগুলো ডু অর ডাই, তাহলে সেটাতো মনের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেই। আপনি এরকম চাপ নেবেন কেন। টিমের ওপর মানসিক চাপটা যাতে কম থাকে, আমি সেই চেষ্টাই করছি। ছেলেরা এই ম্যাচের গুরুত্বটা ভালো করেই জানে। আমার কাজ হচ্ছে তারা যাতে খেলার দিকেই মনোযোগ দিতে পারে সেটা নিশ্চিত করা। তারা যদি ভালো খেলতে পারে তাহলে এই ম্যাচে আমাদের জেতার সম্ভাবনা আছে।’

এক নজরে

বাংলাদেশ-আফগানিস্তান

 

 

দলীয় সর্বোচ্চ রান

বাংলাদেশ: ২৭৯/৮ (ঢাকা, ২০১৬)

আফগানিস্তান: ২৫৫/৭ (আবুধাবি, ২০১৮)

 

ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান

বাংলাদেশ: ২৪৩ (মাহমুদউল্লাহ)

আফগানিস্তান: ২১৫ (হাসমাতউল্লাহ শাহিদি)

 

ব্যক্তিগত সেরা ইনিংস

বাংলাদেশ: ১১৮ (তামিম ইকবাল)

আফগানিস্তান: ৯০* (আসগর আফগান)

 

ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ উইকেট

বাংলাদেশ: ১৩ (সাকিব আল হাসান)

আফগানিস্তান: ১১ (মোহাম্মদ নবি)

 

ব্যক্তিগত সেরা বোলিং

বাংলাদেশ: ৪/৪২ (সাকিব আল হাসান)

আফগানিস্তান: ৪/৭৩ (দাওলাত জাদরান)

 

সর্বোচ্চ ডিসমিসাল

বাংলাদেশ: ৪ (মুশফিকুর রহিম)

আফগানিস্তান: ৬ (মোহাম্মদ শাহাজাদ)

 

সেরা জুটি

বাংলাদেশ: ১৪০ (তামিম-সাবি"র)

আফগানিস্তান: ১৬৪ (আসগর-সামিউল্লাহ)