ড্র হলো দুই ম্যাচ

স্পোর্টস রিপোর্টার

রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে ফলোঅনে পড়েও ড্র করলো প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল। কৃতিত্ব এনামুল হক বিজয়ের দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরির। অন্যদিকে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে ড্র মেনে নিয়েছে বিসিবি উত্তরাঞ্চল ও ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল। রোমাঞ্চকর এই ম্যাচের শেষ দিনের নায়ক ছয় উইকেট পাওয়া মধ্যাঞ্চলের পেসার আবু হায়দার রনি।

শামসুর রহমানের ১৫৩ ও ইয়াসির আলীর ১১২ রানের ইনিংসে ভর করে ইসলামী ব্যাংক ইস্ট জোন ৪৭৩ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করে। দক্ষিণাঞ্চলের এনামুল হক জুনিয়র ও মাহমুদুল হাসানের বোলিং তোপে ২৫৮ রানে অলআউট হয়ে ফলোঅনে পড়ে। অবশ্য ফলোঅন করতে নেমে এনামুল হক বিজয়ের অনবদ্য ১৩৩ রানের ইনিংসে ভর করে ৩৭৭ রান তোলে। এরপর ড্র মেনে নেয় উভয় দল।

কোনো উইকেট না হারিয়ে পূর্বাঞ্চলের শুক্রবার ১৩৫ রান তুলে তৃতীয় দিন শেষ করেছিল। এনামুল হক বিজয় ৪৬ ও শাহরিয়ার নাফীস ৮১ রানে অপরাজিত ছিলেন। গতকাল তারা দুজন চতুর্থ ও শেষ দিনে ব্যাট করতে নামেন। শনিবার দলীয় সংগ্রহে ১ রান যোগ করতে না করতেই আউট হন নাফীস। ১৩৪ বল খেলে ১২টি চারে ৮১ রান করেন তিনি।

এরপর ফজলে মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে দলীয় সংগ্রহকে ১৯৬ রান পর্যন্ত টেনে নেন বিজয়। এই রানে রাব্বী আউট হয়ে যান। ২২টি রান আসে তার ব্যাট থেকে। রাব্বী ফিরে যাওয়ার পর পরই বিজয় তার প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের ১৭তম সেঞ্চুরি তুলে নেন। ২০৫ বল খেলে ১৩টি চার ও এক ছক্কায় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।

২৮৫ রানের মাথায় বিজয়ও সাজঘরে ফেরেন। কিন্তু ফেরার আগে ৩৪২ মিনিট ক্রিজে থেকে, ২৫৩ বল মোকাবিলা করে ১৫টি চার ও ১ ছক্কায় ১৩৩ রান করে যান। বিজয় ফিরে যাওয়ার ১১ রানের মাথায় তুষার ইমরানও বিদায় নেন। ৪১টি রান করেন তুষার। ৩১৪ রানের মাথায় নুরুল হাসানের (১০) উইকেট হারায় সাউথ জোন। এরপর রকিবুল হাসান ও মেহেদী হাসান মিলে দলীয় সংগ্রহকে ৩৭৭ রান পর্যন্ত টেনে নেন। এই রানে ড্র মেনে নেয় উভয় দল। রকিবুল ২৮ ও মেহেদী হাসান ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন। বল হাতে ইস্ট জোনের আফিফ হোসেন ও এনামুল হক জুনিয়র ২টি করে উইকেট নেন। একটি উইকেট নেন মাহমুদুল হাসান।

ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন ১৫৩ রানের ইনিংস খেলা ইস্ট জোনের শামসুর রহমান শুভ। এই ড্রয়ের ফলে দুই ম্যাচের দুটিতেই ড্র করে ইসলামী ব্যাংক ইস্ট জোন ৭.৯৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। দুই ম্যাচের একটিতে হেরে ও একটিতে ড্র করে সাউথ জোনের সংগ্রহ ৪.৩৯ পয়েন্ট।

বগুড়ায় টপঅর্ডাররা ব্যর্থ হলেও শেষদিকে মোসাদ্দেক হোসেনের সেঞ্চুরিতে ভর করে দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো পুঁজি পেয়েছিল মধ্যাঞ্চল। তার সেঞ্চুরির সঙ্গে মোশাররফ হোসেনের ফিফটিতে ভর করে ৩১৮ রানে অলআউট হয়েছে দলটি। উত্তরাঞ্চলের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য ছিল ২৮৪ রানের। ম্যাচটার সমাপ্তি হয় রোমাঞ্চের মধ্য দিয়ে। নয় উইকেট হারিয়ে উত্তরাঞ্চল করে ২৫৫ রান। সর্বোচ্চ ৯২ রান করেন সাঞ্জামুল ইসলাম। অধিনায়ক জহুরুল ইসলাম অমি করেন ৫২ রান। এছাড়া ৪৭ রান আসে ফরহাদ হোসেনের ব্যাট থেকে। উত্তরাঞ্চলকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন পেসার আবু হায়দার রনি। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন মধ্যাঞ্চলের পেসার এবাদত হোসেন।