স্পোর্টস রিপোর্টার
তিন বছর আগের কথা। ২০১৬ আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইডেন গার্ডেন্সে বেন স্টোকসকে চার বলে চার ছক্কা মেরে স্তব্দ করে দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডকে। দানবীয় ব্যাটিংয়ে ট্রফি জিতিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। তখনই ক্রিকেট বিশ্ব চিনেছিল কার্লোস ব্রেথওয়েট নামক এই ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডারকে।
ব্যাট হাতে অনেকটা তেমনই ধ্বংসযজ্ঞ উত্সবে মেতে উঠেছিলেন ব্রেথওয়েট ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। গত শনিবার রাতে এই ক্যারিবিয়ান একাই নিউজিল্যান্ডকে গুড়িয়ে দেয়ার মিশনের শেষ প্রান্তে চলে এসেছিলেন। কিন্তু এবার আর ভাগ্য ৩০ বছর বয়সী উইন্ডিজ ক্রিকেটারের হয়ে কথা বলেনি। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ব্রেথওয়েট বনে গেছেন ‘ট্র্যাজিক হিরো’।
জিমি নিশামের করা ৪৯তম ওভারের শেষ বলে বাউন্ডারি সীমানার কয়েকগজ আগে বোল্টের অসাধারণ ক্যাচে আউট হন ব্রেথওয়েট। তখন জয়ের জন্য দরকার ছিল ৫ রান। তীরে এসে ডুবে গেল জয়ের মিশন। অথচ ম্যাচটি হতে পারতো ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং ঝড়ের আরেকটি সফল প্রদর্শনী। ব্রেথওয়েট আউট হওয়ায় ৫ রানের রুদ্ধশ্বাস জয় পায় নিউজিল্যান্ড।
তিক্ত, হূদয়ভাঙা, বিধ্বস্ত— ম্যাচ শেষের পর ব্রেথওয়েটের ভাষায় এই হারের অভিজ্ঞতা এমনই ছিল। জয়টা প্রায় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের কাছ থেকে। কিন্তু শেষ অব্দি হারের বেদনাই সঙ্গী হয়েছে তার। তিনি বলেছেন, ‘সবাই বিশ্বাস করেছিল আমরা উতরে যাবো।’
জিমি নিশামকে মারা বলটা ছক্কা হবে ভেবেছিলেন ব্রেথওয়েট। তিনি বলেছেন, ‘আমি ভেবেছিলাম ঠিক মতো ব্যাটে লেগেছিল। আমি চেয়েছিলাম এটা উপরে, আরও উপরের দিকে যাক। এটা খুব কম ব্যবধানের ম্যাচ। বলটা ১ বা ২ গজ বেশি গেলে, আমরা আজকের (গত শনিবার) রাতে জিতে যেতাম।’
অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটে ২৯১ রান করেছিল কিউইরা। জবাবে গেইল- হেটমায়ারের হাফ সেঞ্চুরির পরও ১৬৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বসে উইন্ডিজরা। কিন্তু লোয়ার অর্ডারে রোচ, কটরেল, ওশানে থমাসদের নিয়ে ১২২ রান যোগ করেছেন তিনি। দশম উইকেটে ওশানে থমাসের সঙ্গেই গড়েছিলেন ৪১ রানের জুটি। যেখানে থমাসের কোনো অবদানই ছিল না। শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেননি ব্রেথওয়েট। ৮২ বলে করা তার সেঞ্চুরিটাও বিফলে যায়। ১০১ রানের (৯ চার ও ৫ ছক্কা) ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। ২৮৬ রানে থেমে যায় উইন্ডিজ ইনিংস। ৬ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৩। সমান ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে নিউজিল্যান্ড।
দলীয় ২৪৫ রানে কটরেল আউট হওয়ার পর ওশানে থমাসকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে গেছেন ব্রেথওয়েট। তিনি বলেছেন, ‘শেলডন (কোটরেল) যখন আউট হয়ে যায়, তখন ওশানের (থমাস) সঙ্গে আমার কথা হয়েছে যে, আমি রান তুলবো। আমরা এ বিষয়ে কথা বলেছি। আমরা যা নিয়ে কথা বলেছি, সবই হয়েছে। শুধু বলটা বাউন্ডারি পার করা ছাড়া। লোয়ার অর্ডার যে লড়াইটা করেছে তা প্রশংসনীয়।’
৪৯তম ওভারের শেষ বলে এক রান নিয়ে পরের ওভারেও তো ম্যাচ জেতানোর চেষ্টা করতে পারতেন ব্রেথওয়েট। এমন জিজ্ঞাসার জবাবে এই ক্যারিবিয়ান বলেছেন, ‘আমি চেষ্টা করবো। সেও সর্বোচ্চ সতর্ক ছিল। কিন্তু যদি আমার জোনে থাকে, আমি এই বলেই ম্যাচটা শেষ করতে চেষ্টা করবো, যেটা আমি করেছিলাম।’