স্পোর্টস রিপোর্টার
জয়ের পর সাধারণ কোনো অধিনায়ক আর পরাজয়ের শঙ্কার কথা স্বীকার করেন না। কিন্তু বিরাট কোহলি এ নিয়ে কোনো লুকোছাপা করলেন না। মাত্র ২২৪ রান রক্ষা করতে গিয়ে প্রথম ইনিংসের পর তারা যে সন্দেহে পড়ে গিয়েছিলেন, সেটা অকপটে মেনে নিলেন।
ভারতীয় অধিনায়ক বলছেন, তাদের ব্যাটিং মোটেও পরিকল্পনামতো হয়নি। এই উইকেটে তাদের ব্যাটসম্যানরা যে আড়াআড়ি শট করার চেষ্টা করেছেন, এটা ভুল ছিল। কোহলি বলছেন, এই উইকেটের চাহিদা ছিল সোজা ব্যাটে খেলা।
রোদে ঝলমলে দিনে টসে জিতে ব্যাটিং নিতে দ্বিধা করেননি কোহলি। তাদের লক্ষ্য ছিল ২৫০-এর ওপরে কিছু একটা স্কোর দাঁড় করানো। কিন্তু ইনিংস এগোনোর সাথে সাথে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের দারুণ চ্যালেঞ্জ করেন আফগান বোলাররা।
কোহলি বলছিলেন, এই সময়ে তাদের নতুন করে হিসাবনিকাশ করতে হয়েছে, ‘আমরা আশা করেছিলাম, টস জিতে বড় একটা স্কোর বোর্ডে তুলে রাখবো। কিন্তু এরপর আমরা দেখলাম, উইকেট নাটকীয়ভাবে ধীরগতির হয়ে যাচ্ছে। তিনজন লেগস্পিনার (রশীদ খান, রহমত শাহ ও মুজিব উর রহমান) দারুণ বল করছে। আমরা ভেবেছিলাম, ২৫০-২৬০ হয়তো ভালো স্কোর হবে। কিন্তু ২৭০ হলে সেটা এই উইকেটে অসাধারণ স্কোর হবে।’
কোহলি নিজে অবশ্য খুব খারাপ করেননি। এই টুর্নামেন্টে নিজের তৃতীয় ফিফটি তুলে নিয়েছেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই ম্যাচে। এছাড়া সব ব্যাটসম্যানই এই ম্যাচে ছন্দ খুঁজে পেতে কষ্ট করেছেন। রোহিত শর্মা মুজিবের ক্যারম বলে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন। লোকেশ রাহুল বিস্ময়করভাবে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে খেসারত দিয়েছেন। ধোনি বিশ্বকাপে নিজের ক্যারিয়ারে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হয়েছেন।
কোহলি নিজে বোলারদের ওপর আধিপত্য দেখিয়েই ৬৩ বলে ৬৭ রানের একটা ইনিংস খেলেছেন। বাড়তি বাউন্সের বলে কাট করে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। এর আগে ভালোই স্ট্রাইক রোটেট করে খেলছিলেন।
কোহলি স্বীকার করেছেন, তার নিজের শট সিলেকশনও খুব ভালো ছিল না, ‘আমি যখনই একবার এই উইকেটের গতিটা বুঝতে পারলাম, এটা বুঝতে পারলাম যে, এটা আড়াআড়ি ব্যাটে শট খেলার উইকেট নয়। এই উইকেটে আপনাকে সোজা ব্যাটে খেলতে হবে। আর এজন্যই আমি স্ট্রাইক রোটেট করে খেলেছি। আমাদের শট নির্বাচন আরো ভালো হতে পারতো। অনেকগুলো আড়াআড়ি শটের জন্য ভুগেছি আমরা। এই ধরনের খেলায় আপনি প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিতে পারবেন না। এখানে আপনার প্রতিপক্ষের বোলিংকে সমীহ করতেই হবে। আর এ রকম উইকেটে আপনি যখন উইকেট হারাতে থাকবেন, তখন তিনজন মানসম্পন্ন লেগস্পিনার ঝাপিয়ে পড়বেই। তারা সত্যিই আমাদের চেপে ধরতে পেরেছিল। আফগানিস্তানের দলে প্রতিভার অভাব নেই। তারা কখনোই আপনাকে মন মতো খেলতে দেবে না।’
আফগানিস্তানের এই উড়তে থাকা মানসিকতার কারণেই প্রথম ইনিংসের পর ম্যাচের ফল নিয়ে দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলেন। কোহলি বলছিলেন, ‘ম্যাচের অর্ধেকে এসে আমাদের মনে এক ধরনের দ্বিধা তৈরি হয়েছিল। আমরা ভাবছিলাম, ফল কী হয়! তবে ড্রেসিংরুমে সবার নিজেদের ওপর বিশ্বাস ছিল। একটা সমন্বিত বিশ্বাস ছিল যে, আমরা জিততে পারি।’
বিশ্বকাপের যত হ্যাটট্রিক
খেলোয়াড় দল প্রতিপক্ষ আসর
চেতন শর্মা ভারত নিউজিল্যান্ড ১৯৮৭
সাকলাইন মুশতাক পাকিস্তান জিম্বাবুয়ে ১৯৯৯
চামিন্দা ভাস শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশ ২০০৩
ব্রেট লি অস্ট্রেলিয়া কেনিয়া ২০০৩
লাসিথ মালিঙ্গা শ্রীলঙ্কা দক্ষিণ আফ্রিকা ২০০৭
কেমার রোচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ নেদারল্যান্ডস ২০১১
লাসিথ মালিঙ্গা শ্রীলঙ্কা কেনিয়া ২০১১
স্টিভেন ফিন ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া ২০১৫
জেপি ডুমিনি দক্ষিণ আফ্রিকা শ্রীলঙ্কা ২০১৫
মোহাম্মদ শামি ভারত আফগানিস্তান ২০১৯