শ্রীলঙ্কান ফুটবলার প্রেমলালের কথা এখনো ভোলেননি বাংলাদেশের ফুটবল দর্শক। আবাহনীর জার্সি গায়ে প্রেমলাল অসাধারণ ফুটবল উপহার দিয়েছেন এ দেশের দর্শকদের। প্রেমলাল ৮৭ সালে ফেডারেশন কাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে মোহামেডানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। তাকে ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় চলে গেলেন মালির ফুটবলার দিয়াবাতে।
গতকাল মঙ্গলবার (৩০ মে) কুমিল্লায় ফেডারেশন কাপের ফাইনালে আবাহনীর বিপক্ষে তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। শুধু হ্যাটট্রিক-ই করেননি, করেছেন চার গোল। ফেডারেশন কাপের ফাইনালে চার গোল করেছেন তিনি। আর তাই পুরস্কার পেয়েছেন হাত ভরে। টুর্নামেন্টের ট্রফি জয় করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলার, সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন দিয়াবাতে। পুরো টুর্নামেন্ট মিলিয়ে তার গোল সংখ্যা ৮। দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছেন এই দিয়াবাতে। মোহামেডানের একাদশে সবচেয়ে পরিশ্রমী খেলোয়াড় তিনি। ওপরে নিচে নেমে লড়াই করেন। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেলার মতো ফুটবলার কম। যে কারণেি তাকে বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়।
গতকাল ফাইনালে আবাহনীর বিপক্ষে ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন দিয়াবাতে। তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি আবাহনীর রক্ষণ। পিছিয়ে থাকা মোহামেডান ফিরে আসবে। এমন বিশ্বাস দিয়াবাতের ছিল। বলছিলেন আমরা পিছিয়ে থাকলেও কখনো মনে হয়নি সব শেষ হয়ে গেছে। আমরা ফিরব সেটা মাথায় রেখেই লড়াই করেছি। খেলার শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে। আল্লাহ আমাদেরকে সহযোগিতা করেছে।’
চ্যাম্পিয়ন কোচ আলফাজ আহমেদ
ভঙ্গুর অবস্থায় মোহামেডানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন আলফাজ আহমেদ। চ্যালেঞ্জ নিয়ে জয় পেয়েছেন। কাল তার চোখে জল ভাসছিল। ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আবাহনীর বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার আগে ড্রেসিং রুমে টোটকা দিয়েছিলেন তার খেলোয়াড়দের। কীভাবে ম্যাচে ফিরতে হয়। বললেন, ‘আমি তিন জন ফুটবলার পরিবর্তন করেছি। সেটাই মোহামেডানকে ট্রফি জয়ের পথে এগিয়ে দিয়েছে।’ এই ফাইনালের আগেও মোহামেডানের হয়ে আরো একটা ফাইনাল খেলেছিলেন আলফাজ। সেই তিনি সময়কার স্মৃতিচারণ করে তিনি বললেন, ‘আমি খেলোয়াড় হয়ে ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, আজ কোচ হয়েও চ্যাম্পিয়ন হলাম।’
আবাহনীর কোচ মারিও লেমোস
আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমোস সরাসরি না বললেও বুঝিয়ে দিয়েছেন তার দলের খেলোয়াড়দের দোষ ছিল। ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা আবাহনী কীভাবে ২ গোল হজম করল। লেমস বললেন, ‘গা ছেড়ে দিয়েছে আমার ফুটবলাররা। খেলা শেষ হতে তখনো বাকি আর খেলোয়াড়রা মনে করছেন মোহামেডান পারবে না। আমার ছেলেরা মোহামেডানকে জায়গা করে দিয়েছে। এভাবে সুযোগ করে দিলে যে কেউ জায়গা করে নেবে। সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে মনের জোর বাড়িয়ে খেলেছে মোহামেডান।’ লেমস আরো বলেন, ‘আমরা প্রথম ১৫ মিনিট ভয়ংকর ফুটবল খেলেছি। কিন্তু দুই গোল হওয়ার পর আমার খেলোয়াড়রা ঘুমিয়ে গেছে। সুযোগ নিয়েছে ওরা। এখানে গরম একটা বড় ফ্যাক্টর ছিল।’