অপরিকল্পিত বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট ও মিল-কারখানা গড়ে ওঠায় সিরাজদিখান ও আশেপাশের উপজেলাগুলোতে আবাদি জমির পরিমাণ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। অব্যাহত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, তাদের বসবাস ও অন্যান্য প্রয়োজনের তাগিদে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা ফসলি জমির ওপর গড়ে তুলছে বসতবাড়ি, পুকুর, দোকান, রাস্তা, ইটভাটা, পেট্রোল পাম্প ইত্যাদি। এক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না কোনো আইন।
এলাকা ঘুরে জানা যায়, পরিবারের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পৈতৃক ভিটায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেকে বসবাসের জন্য ফসলি জমিতে তৈরি করছে বাড়ি-ঘর। এমনকি বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় চাষাবাদের জমি, খাল-বিল ও পুকুর ভরাট করে আবাসিক প্লট ও মার্কেট তৈরি করে প্লট ও দোকান বিক্রি করা হচ্ছে। এলাকাটি রাজধানী ঢাকার খুব কাছে অবস্থিত হওয়ায় স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসেও জমি কিনে বাড়িঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা করছে। যারা দীর্ঘদিন রাজধানীতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন তারাও এখন অতিরিক্ত বাসাভাড়ার চাপে নিজ এলাকায় বাড়িঘর তৈরি করে নিয়মিত ঢাকায় গিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালতে কাজ সেরে প্রতিদিন বাড়ি ফেরেন। তা ছাড়া, ঢাকা-মাওয়া ও এর সংলগ্ন বড় রাস্তাগুলোর পাশে গড়ে উঠছে মিল-কারখানা, বিভিন্ন মার্কেট, পেট্রোল পাম্প ও দোকানপাট।
সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র রায় জানান, বর্তমানে সিরাজদিখানে মোট কৃষি জমির পরিমাণ ১৪ হাজার হেক্টর। রাস্তা, বাড়ি নির্মাণের কারণে প্রতি বছর প্রায় ৪/৫ হেক্টর জমি কমে যাচ্ছে। কৃষি জমিতে বসতবাড়ি তৈরি করা হলে পার্শ্ববর্তী ফসলি জমির ওপর এর প্রভাব পড়ে। ঐ সমস্ত জমিতেও ফসল উত্পাদন কম হয়।