৫ উইকেটে ৩৬২ রান। সেটাও মাত্র ৭৯ ওভারে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিন শেষের স্কোরকার্ড বাংলাদেশের হয়েই হাসছে। স্কোরকার্ডের দিকে তাকিয়ে হাসছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও, নিশ্চিত করে বলা যায় এটাও। স্কোরকার্ডের এই স্বস্তির আভার আড়ালে লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের জন্য আরো দুটি গর্বের বিষয়। প্রথমত প্রথম দিনেই দলীয় একটা রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। জুটিতে হয়েছে ‘দ্বিতীয় সর্বোচ্চে’র রেকর্ড।
৫ উইকেটে ৩৬২, মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্টের প্রথম দিনে এটাই যেকোনো দলের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এর আগে কোনো দলই মিরপুরে টেস্টের প্রথম দিনে এত বেশি রান করতে পারেনি। মজাটা হলো রেকর্ডটা হয়েছে মাত্র ১ রানের জন্য। মিরপুরে টেস্টের প্রথম দিনে এতদিন সর্বোচ্চ রান করার রেকর্ডটা ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের দখলে। ২০১২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ক্যারিবীয়রা প্রথম দিনে করেছিল ৩৬১ রান। বাংলাদেশ দলের এর আগের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ৩৩০ রান, ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
দেশ-দেশের বাইরে মিলিয়ে টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ৩৭৪ রান। ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রামে ঐ রেকর্ডটা গড়েছে বাংলাদেশ। গতকাল মিরপুরে রেকর্ডটা গড়ার মূল কারিগর ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দলকে প্রথম দিনেই এই উচ্চতায় তুলে দিতে তরুণ মাহমুদুল হাসান জয় করেছেন হাফসেঞ্চুরি। আউট হয়েছেন ৭৬ রান করে। নাজমুল হোসেন শান্ত দলকে উপহার দিয়েছেন ১৭৫ বলে ১৪৬ রানের দারুণ এক ইনিংস। টেস্টে মাহমুদুল হাসানের এটা দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি। নাজমুল হোসেন শান্তর তৃতীয় সেঞ্চুরি।
হাফসেঞ্চুরি ও সেঞ্চুরি করার পথে তারা দুজনে মিলে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েছেন ২১২ রানের জুটি। টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় উইকেটে এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি। দ্বিতীয় উইকেটে বাংলঅদেশের সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ডের মালিক শামসুর রহমান ও ইমরুল কায়েস। ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রামে ২৩২ রানের জুটি গড়েছিলেন তারা। মাত্র ২০ রানের জন্য সেই রেকর্ডটা ছুঁতে পারেননি মাহমুদুল-নাজমুল।
রানের হিসাবে টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ জুটির তালিকায় মাহমুদুল-নাজমুলের কালকের জুটিটা জায়গা করে নিয়েছে ১২ নম্বরে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটিটি ৩৫৯ রানের। ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই জুটিটা গড়েন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম।