রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে আক্রান্ত মেয়ের জামাইকে দেখতে গিয়ে ডায়রিয়ায় এক দম্পতির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও রুমানা আক্তার।
উপজেলার দুর্গম লংথিয়ান পাড়ায় শুক্রবার (১৬ জুন) দিবাগত রাত ৩টার দিকে তাদের মৃত্যু হয়।
মৃতরা হলেন একই ইউনিয়নের বেটলিংয়ে এলাকার বাহন ত্রিপুরা (৫৫) ও তার স্ত্রী মেলাতি ত্রিপুরা (৫০)। তারা লংথিয়ানপাড়ায় ডায়রিয়া আক্রান্ত মেয়ে ও তার জামাইকে দেখতে গিয়ে ছিলেন।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আক্তার বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাতে দুর্গম লংথিয়ান পাড়ায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুজন মারা গেছেন। সম্পর্কে তারা স্বামী ও স্ত্রী। তারা লংথিয়ান পাড়ায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত মেয়ের জামাইকে দেখতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে।
ইউএনও বলেন, সাজেকের দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই, পাহাড়ী ছড়ার পানি পান করায় প্রতিবছর বর্ষার শুরুতে এই সমস্যা দেখা দেয়। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় চেষ্টা করছি সাজেকের দুর্গম অঞ্চলে প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সমস্যা দূর করতে।
এছাড়া সাজেকে ডায়রিয়া প্রতিরোধে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারের সাহায্যে সেনাবাহিনী বিজিবি ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকগণ সম্মিলিত চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে।
সাজেক ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার বনবিহারী চাকমা জানান, এর আগে ৭ জুন (বুধবার) দিবাগত রাতে গবতি বালা ত্রিপুরা (৫০) ও দরুং ত্রিপুরা (৬০) নামে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সাজেকে চার জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, ৭ জুন সাজেকের লংথিয়ান পাড়ায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যুর পর ৮ জুন (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও উপজেলা প্রশাসনের তিনটি মেডিকেল টিম টানা এক সপ্তাহব্যাপী চিকিৎসা সেবা দিয়ে বুধবার (১৪ জুন) ফিরে যায়। এর মধ্যেই নতুন করে আরও দুজন গ্রামবাসীর মৃত্যু হলো।