বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পিয়ন যেন ‘দুর্নীতির ডন’

রাজশাহীর বাঘায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অফিস সহকারী জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া বদলির আদেশ অমান্য করে একই অফিসে বিশ বছর কর্মরত তিনি।

তার বিরুদ্ধে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় করোনার সময় ভুয়া নাম সম্পৃক্ত করে ক্ষতিগ্রস্থ খামারিদের সরকারি প্রণোদনার লক্ষ-লক্ষ টাকা আত্মসাৎ, পিপিআর ও কলেরা ভ্যাকসিনে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অফিস সহকারীর পদে চাকরি করে কৃত্রিম প্রজনন করাসহ নির্বাচনে ডিউটি এবং হাটে রোগাক্রান্ত গরু জবাইয়ের অনুমতি দিয়ে অবৈধভাবে টাকা নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

আব্দুল বারি নামে এক ভুক্তভুগীর লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পিয়ন পদে কর্মরত জাহাঙ্গীর হোসেন উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের ভানুকর গ্রামের মৃত আমানুল্লাহ এর ছেলে। তিনি দীর্ঘ ২০ বছর একই অফিসে চাকরি করে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছেন। তার সঙ্গে প্রধান কর্মকর্তার রয়েছে ব্যাপক সখ্যতা। এ কারণে ছোট পদে চাকরি করেও তিনি গত ইউপি এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পোলিং অফিসার পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঐ অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় করোনাকালীন সরকার ক্ষতিগ্রস্থ খামারিদের প্রনোদনা প্রদান করেছেন। এই প্রনোদনা প্রকৃত গাভী পালনকারী বা ক্ষতিগ্রস্থ খামারীদের পাওয়ার কথা। কিন্তু অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অফিসে নিজের প্রভাব ও কৌশল খাটিয়ে পিয়ন জাহাঙ্গীর হোসেন নিজের নামে এবং পরিবারের সদস্য ও আত্মীয় স্বজনদের নামে প্রায় দশ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। যাদের কোনো প্রকার গরু-কিংবা খামার নেই। এ তালিকায় তিনি নিজে-সহ তার মেয়ে, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী, বড় ভাইয়ের স্ত্রী ও স্ত্রীর ভাইসহ অনেক নিকটতম আত্মীয়ের নামে সম্পৃক্ত করেছেন। যা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। 

এদিকে পিয়ন জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে তার শ্যালক শাহিন আলী অভিযোগ করে বলেন, জাহাঙ্গীর আমার দুলাভাই। তিনি আমার স্ত্রী নিলুফাসহ আমার নামে প্রনোদনা কার্ড করে টাকা উত্তোলন করেছেন। এরপর আমাকে ১০ হাজার টাকা দিলেও অদ্যবধি আমার স্ত্রীর টাকা বুঝিয়ে দেননি। 

তার বিরুদ্ধে বাঘা হাটের মাংস ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে হাটে গরু-মহিষ জবাই করতে হলে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের একটি অনুমতি লাগে। এ কাজে অফিস থেকে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য গরু প্রতি আমরা তাকে ৫০ টাকা করে দিয়ে থাকি। কিন্তু কখনো-কখনো নিয়ম ভঙ্গ করে তিনি অতিরিক্ত টাকার বিনিময় অসুস্থ গরু জবাই করার অনুমতি দেন। এর ফলে মাংস ক্রেতারা প্রতারণার শিকার হন।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, আমি কোনো দুর্নীতি করিনি। অফিসের কতিপয় ব্যক্তি আমার ভালো চায় না। তারা আমাকে এখান থেকে বদলি করানোর জন্য সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে একের-পর এক সংবাদ প্রকাশ করাচ্ছে। এতে আমার কিছু যাই আসে না। আমি যা কিছু করি না কেন, সব কিছুই স্যাররা অবগত।

বাঘা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। তার বিষয়ে আমার তেমন কিছু জানা নেই। 

রাজশাহী জেলা প্রাণীসম্পদ অফিসার ড. জুলফিকার মো. আক্তার বলেন, করোনার সময় আমি রাজশাহী ছিলাম না। ভুক্তভুগীরা আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করলে আমি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।