টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাটগুলো ডুবতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে বাড়ছে পানি। সেই সাথে জনমনে বাড়ছে শঙ্কা। উপজেলার পূর্ব ও পশ্চিম ইসলামপুর, উত্তর ও দক্ষিণ রণিখাই, তেলিখাল এবং ইছাকলস ইউনিয়নের নিচু এলাকার রাস্তাঘাট প্লাবিত হতে শুরু করেছে। নিচু এলাকার লোকজন নৌকা দিয়ে চলাফেরা করছেন।
এদিকে সুনামগঞ্জে সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটা, চলতি, খাসিয়ামারা, বৌলাই, রক্তিসহ সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সুরমা নদীর ছাতক পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোহম্মদ সজিব আহমদ বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ২২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, বন্যার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ফ্লাড সেন্টারগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, আগামী দুই সপ্তাহে সুরমা-কুশিয়ারাসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। উজানে ভারী বর্ষণের কারণে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে দেখা দিতে পারে স্বল্পমেয়াদি বন্যা।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উজানে ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। যার ফলে এ সময়ে এ অঞ্চলের নদ-নদীসমূহের পানি সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কতিপয় পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির বৃষ্টি করতে পারে। তবে জেলার হাওরগুলোতে পানি ধারণক্ষমতা বেশি থাকায় নিম্নাঞ্চলের বন্যা সৃষ্টি হলে দ্রুতই উন্নতি হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন, বন্যার পূর্বাভাসে আতঙ্ক বিরাজ করছে জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এলাকায়। নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এলাকায় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি শুকনা খাবার মজুদ রাখা হয়েছে। আমাদের কাছে নগদ ২৫ লাখ টাকা, ৬০০ মেট্রিক টন জিয়ার চাল ও ১০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার প্রস্তুত আছে।