গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান দলকে নিয়ে এবং খেলোয়াড়দের নিয়ে সে দেশের সংবাদ মাধ্যমে অনেক লেখালিখি হয়েছে। এমনকি খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিকও আলোচনায় এসেছে। অবশেষে সেই সব কথা পেছনে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪৯ রানে জয় পেয়েছে তারা। আর এই জয়ে কঠিন হলেও টিকে রয়েছে তারা সেমিফাইনালের লড়াইয়ে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই জয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত দলের দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ মিকি আর্থার। সেটা যতো না দলের সেমিফাইনালে টিকে থাকার কারণে, তার চেয়ে বেশি সমালোচকদের জবাব দিতে পারায়
পাকিস্তান এই জয়টা পেয়েছে মূলত হারিস সোহেলের ৫৯ বলে ৮৯ রানের ইনিংসে ভর করে। সেই সাথে বাবর আজমের ফিফটি দলকে ৭ উইকেটে ৩০৮ রানের সংগ্রহ এনে দেয়।
এই ম্যাচের পর কোচ মিকি আর্থার বলছিলেন, গত সপ্তাহ খানেকে যত সমালোচনা খেলোয়াড়দের হয়েছে, এটা সেই সমালোচকদের মুখ বন্ধ করাবে, ‘আমি যেটা জানি যে, ছেলেরা কিছু করেছে। তাদের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিলো, সেই সময় তারা ঘুরে দাঁড়িয়ে কিছু পারফরম করেছে। হ্যাঁ, গত এক সপ্তাহ ধরে তারা যেনো পুড়ে যাচ্ছিলো। এই ছেলেরা মিডিয়ার দ্বারা, সমর্থকদের দ্বারা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দ্বারা খুবই কষ্ট পেয়েছে। আশা করি সেই সবকিছুর ভালো একটা জবাব ছেলেরা অবশেষে দিতে পেরেছে। এখন কিছু লোকের মুখ কিছুদিন অন্তত বন্ধ রাখা যাবে।’
যদিও পাকিস্তানের সেরা চারে পৌঁছানোর পথটা এখনও মোটেও সোজা নয়। নিজেদের সবগুলো ম্যাচ জেতার পাশাপাশি অন্যদের ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে দলটিকে। কিন্তু এই কঠিন সমীকরণ মাথায় না নিয়েই মিকি আর্থার বলছেন, তারা বিশ্বকাপে এখনও জীবন্ত অবস্থায় আছেন। কারণ এই জয়ের গতি নিয়েই তারা পরের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবেন, ‘আমি জানি, আমরা নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারি। আমরা টিকে আছি এবং সজীব আছি। কোনো সন্দেহ ছাড়াই আমরা টিকে আছি। আমরা আমাদের সেরা খেলাটা খেলেছি। আমরা যে কোনো দলকে হারাতে পারি। সেটা নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান হোক আর বাংলাদেশ। আমাদের বাকি ম্যাচগুলোতে আমরা এটাই দেখাতে চাই। আমরা তিন বিভাগে একসাথে পারফরম করতে পারলে আমরা বিশ্বের যে কোনো দলের মতোই ভালো দল।’
যতই আর্থার প্রশংসা করুন, এদিনও পাকিস্তান এক গাদা ক্যাচ ফেলেছে। ফলে দুশ্চিন্তার সুযোগ তাদের থাকছেই। আর্থার স্বীকার করলেন, এই ম্যাচে ফিল্ডিংটা তাদের খুব ভালো হয়নি, ‘আমরা বোলিং ও ব্যাটিং ভালো করেছি। আমাদের সমস্যা হলো, তিন বিভাগে এক সাথে পারফরম করতে পারিনি কোনো খেলায়। আমরা এই ম্যাচে ভালো বল করেছি, ভালো ব্যাট করেছি। কিন্তু এই ম্যাচেও ফিল্ডিং ভালো করিনি। ফলে আমরা তিন বিভাগে যখন একসাথে পারফরম করলে আমরা খুব ব্যতিক্রমী একটা দলে পরিণত হবো। আমরা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো করেছি ইংল্যান্ডকে হারানোর ম্যাচে। আমরা পরের তিন ম্যাচ জিতলে (সেমিফাইনালে) চলে যাবো। আমরা সেটা মাথায় নিয়েই খেলছি।’