১৯৯২ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, তথা বিশ্বকাপে ফেরার পর এত বড় অবমাননা আর কখনো সহ্য করতে হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকাকে। হ্যাঁ, ২০০৩ সালেও তারা প্রথম রাউন্ড থেকে বাদ পড়েছিলো। তবে সেবার তারা শেষ ম্যাচ খেলতে নেমেছিলো এটা জেনে যে, জিততে পারলে পরের রাউন্ডে যেতে পারবে। এবার বিশ্বকাপে শেষ দুটি ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকা খেলবে কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই। কারণ এর আগেই পাকিস্তানের বিপক্ষে রবিবারের পরাজয়ে নিশ্চিত হয়ে গেছে, দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে পারছে না দক্ষিণ আফ্রিকা।
দক্ষিণ আফ্রিকা গতকাল পর্যন্ত পয়েন্ট টেবিলে কেবলমাত্র আফগানিস্তানের ওপরে ছিলো। এই আফগানিস্তানের বিপক্ষেই ৭ ম্যাচে একটিমাত্র জয় পেয়েছে তারা। এই দুই ম্যাচ হাতে রেখেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়াটাকে অত্যন্ত বিব্রতকর একটা ব্যাপার বললেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি, ‘হ্যাঁ, এটা অবশ্যই আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ সময়। আমি এমনিতে খুব গর্বিত একজন খেলোয়াড় ও অধিনায়ক। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলাটাই আমার কাছে অনেক বড় একটা ব্যাপার। কিন্তু এখন বাস্তবতা হলো, সবগুলো ফলাফল আমাদের হাত থেকে ফসকে গেছে। এটা খুব, খুব কঠিন একটা সময়। আজ এই ফলাফলের পর মানতে হচ্ছে, এটা বিব্রতকর। আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করেছি। কিন্তু চেষ্টাটা যথেষ্ট হয়ে ওঠেনি। আমি একজন মানুষ। তাই এটা আমাকেও যন্ত্রণা দিচ্ছে।’ তবে এই অবস্থায় নিজের যে ভেঙে পড়ার সুযোগ নেই, সেটা ডু প্লেসি নিজেই মনে করিয়ে দিলেন। বলছিলেন, এই সময়েই খেলোয়াড়দের পাশে শক্ত হয়ে থাকাটা সবচেয়ে জরুরি, ‘এই সময়ে এটা জরুরি যে, কোচ, আমি ও অন্য সিনিয়র খেলোয়াড়রা সামনে এগিয়ে এসে এই চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করবো। এটাই সেই সময় যখন খেলোয়াড়দের পাশে থাকা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। ফলে এই মুহূর্তে আমাকে অন্য খেলোয়াড়ের পাশে থাকতে হবে।’
বিশ্বকাপ জুড়েই খারাপ পারফরম্যান্স করছে দক্ষিণ আফ্রিকা। শুরু হয়েছিলো বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরে। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে পারফরম্যান্সটাকে অনেকে সবচেয়ে খারাপ মনে করছেন। ডু প্লেসি নিজে এটাকে সবচেয়ে খারাপ না বললেও সবচেয়ে হতাশাজনক বলে মনে করেন, ‘আসলে আমি মনে করছি, আমরা একই ভুল করেই চলেছি। সম্ভবত বোলিং দিয়েই আমরা খারাপ করা শুরু করেছি। আমরা বোলিং নিয়ে টুর্নামেন্ট জুড়েই কাজ করে চলেছি। কিন্তু আজও (পাকিস্তানের বিপক্ষে) আমরা মানসম্মত পারফরম্যান্স করতে পারিনি। সম্ভবত ইম্মি (ইমরান তাহির) একাই শুধু আরেকবার ব্যতিক্রম হয়ে পারফরম করতে পেরেছে। কিন্তু বাকিরা সম্ভবত দশের মধ্যে পাঁচ পাওয়ার মতো পারফরমও করতে পারেনি। আমরা ৩০ রানের মতো বাড়তি দিয়ে ফেলেছি। এরপর ব্যাটে আবার সেই হতাশাজনক পারফরম্যান্স করেছি। আমরা ইনিংস শুরু করেছি নিয়মিত উইকেট হারিয়ে। এরপর যখনই জুটি করেছি, তখনই আবার উইকেট গেছে।’
এমনিতে ডু প্লেসি বারবারই বললেন, এই দক্ষিণ আফ্রিকা দলের নেতৃত্ব দিতে পেরে, এই দলের হয়ে খেলতে পেরে তিনি গর্বিত। কিন্তু নিজেদের মানের থেকে এতো নিচে খেলায় তিনি একই সঙ্গে দুঃখিত। ডু প্লেসি মনে করেন, দক্ষিণ আফ্রিকা দল এই ধাক্কা সামলে উঠতে পারবে।