লাখো মানুষের দুর্ভোগের অবসান হবে

পুনর্নির্মাণ হচ্ছে বগুড়ার ফতেহ আলী ব্রিজ

বগুড়া শহরের মাঝ দিয়ে যাওয়া করতোয়া নদীর ওপর ষাটের দশকে নির্মিত শাহ ফতেহ আলী ব্রিজটি পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। পূর্ব বগুড়ার তিনটি উপজেলায় সরাসরি যাতায়াতের জন্য এই ব্রিজ  ব্যবহার করতে হয়। পাঁচ বছর আগে এই ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। এই ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় পূর্ব বগুড়ার লাখ লাখ মানুষের দুর্ভোগ নিরসন হবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এই ব্রিজ নির্মাণ করছে।

এলাকাবাসী জানান, ১৯৬২ সালে করতোয়া নদীর ওপর  ফতেহ আলী সেতু নির্মাণ করে তৎকালীন সড়ক ও জনপথ বিভাগ। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সেতুটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তা মেরামত করা হয়। এরপর আর সংস্কার না হওয়ায় দিনে দিনে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। বগুড়া জেলা শহরের সঙ্গে সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও গাবতলী উপজেলার লোকজন এই সেতু হয়ে যাতায়াত করে। তিন উপজেলার সাধারণ মানুষের চলাচলের পাশাপাশি কৃষিপণ্যসহ সব যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক কথায় পূর্ব বগুড়ার মানুষের চলাচলের ভরসা ফতেহ আলী সেতু। ২০১৮ সালে বগুড়া সড়ক বিভাগ সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। তবে ব্রিজের দুই প্রান্তে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ভারী যানবাহন বন্ধ করে দিয়ে শুধু রিকশা ও মানুষ চলাচলের জন্য রাখা হয়েছিল। ব্রিজ পরিত্যক্ত হওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচলে বিকল্প সড়ক ব্যবহার হলেও পোহাতে হয় নানা দুর্ভোগ। এর ফলে প্রায় ৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে ভারী যানবাহনগুলো চলাচল করে।

সওজ বগুড়া অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান জানান, নতুন ব্রিজটি হবে দৃষ্টিনন্দন। এবার ব্রিজটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি টাকা। আগে ব্রিজটি ছিল ২১৩ ফুট লম্বা ও ২০ ফুট প্রস্থ। এবার তা বাড়িয়ে ২২৬ ফুট লম্বা ও ৪০ ফুট প্রস্থ করা হচ্ছে। মানুষের চলাচলে ব্রিজের দুপাশে আট ফুট করে ফুটপাত ও মাঝের ২৪ ফুট যানবাহন চলাচল করবে। বাংলাদেশ সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় অর্থ বরাদ্দ করেছে।

সম্প্রতি এই ব্রিজের পুনর্নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রাগেবুল আহসান রিপু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু, যুগ্ম-সম্পাদক আসাদুর রহমান দুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদত আলম ঝুনু, সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান প্রমুখ।

সড়ক ও জনপদ বিভাগ বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান জানান, এক বছরের মধ্যে এই ব্রিজের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে। একে টেকসই দীর্ঘস্থায়ী করতে দুপাশে নদীর তীর রক্ষা বাঁধ তৈরি করা হবে। এছাড়া সেতু নির্মাণকালে বর্তমান সেতুর পাশ দিয়ে সাধারণ মানুষ চলাচলের জন্য ভ্রাম্যমাণ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।