কুমিল্লা নগরীর মহিলা কলেজ-ইপিজেড সড়ক

অবশেষে ড্রেন পরিষ্কারসহ পানি অপসারণ করছে এলাকাবাসী

কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণাংশের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণিপেশার হাজারো জনগণের যাতায়াতের ব্যস্ততম সরকারি মহিলা কলেজ হতে ইপিজেড সড়ক পর্যন্ত আবদুর রহমান খন্দকার সড়কে (এআরকে রোড) জমে থাকা পানি ও ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা অপসারণের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে নগর কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততার কারণে অনেকটা নিরুপায় হয়ে অবশেষে বাসিন্দাদের সহায়তা নিয়ে স্থানীয় আবুল খায়ের খন্দকারের নেতৃত্বে একদল যুবক ১৫ জন শ্রমিকের মাধ্যমে গত দুইদিন ধরে ড্রেন পরিষ্কারসহ সড়কের পানি অপসারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানান, নগরীর দক্ষিণ চর্থার এআরকে সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়কের পাশে বেশ কয়েকটি স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ সড়ক হয়ে সরকারি মহিলা কলেজ, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুল, জিলা স্কুল, ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লুত্ফুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ নগরীর দক্ষিণাংশের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে থাকে। এ ছাড়া কুমিল্লা ইপিজেডের শত শত শ্রমিক, এলাকার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে এ সড়কে দিনে-রাতে চলাচল করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে এ সড়কের পাকা অংশ ও ড্রেন বিলীন হয়ে যাওয়ায় জনগণ সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এ ব্যাপারে নগর কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এ সড়কে বিভিন্ন যানবাহন প্রায় সময় উল্টে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন অনেক যাত্রী।

স্থানীয় যুবক আবুল খায়ের খন্দকার ও এজাজুল করিম বলেন, নগরীর এ সড়কটি দিয়ে স্বাভাবিক চলাচলও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন ময়লা পানি ও খানাখন্দে শিক্ষার্থী-পথচারীদের জামা-কাপড় নষ্ট হতে দেখা যায়। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি অপসারণ হয় না, এতে পানি ও ময়লা-আবর্জনা জমাট বেঁধে প্রায় বছর জুড়েই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

তারা বলেন, এ সড়কের সংস্কার কাজ কবে হবে জানি না, এজন্য সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলেও চলবে না। তাই সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে উদ্যোগ নিয়ে বাসিন্দাদের সহায়তায় প্রতিজন শ্রমিককে ছয়শ টাকা করে মজুরি দিয়ে গত দুইদিন ধরে ১৫ জন শ্রমিক নিয়োজিত করে ড্রেন পরিষ্কারসহ সড়কের পানি অপসারণে জনদুর্ভোগ নিরসনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এদিকে গত ১৫ জুন দৈনিক ইত্তেফাকে এ সড়কে জনদুর্ভোগের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরদিন নগর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সড়কটি পরিদর্শন করেন এবং সহসা সংস্কার কাজ শুরু করা হবে এমন আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ মো. নুরুল্লাহ বলেন, ‘প্রায় ছয় মাস আগে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে এ সড়কটি সংস্কারের জন্য কাজ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সমস্যার কারণে কাজটি বিলম্বিত হচ্ছে, তবে সহসাই সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।’