সড়ক-মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যান অবাধে চলাচল করায় বিআরটিএ ও পুলিশের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, দেশের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা দ্বিগুণ করা হয়েছে। এমনকি বাড়ি-গাড়িও দেওয়া হয়েছে। এরপরেও দুর্নীতি কমছে না। আমাদের সকলের জবাবদিহিতা থাকা দরকার। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ মন্তব্য করেন।
আদালতে উপস্থিত বিআরটিএর প্রতিনিধির উদ্দেশে হাইকোর্ট বলে, আপনারা কী করেন? সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য কেন কোর্টকে আদেশ দিতে হবে? আপনাদেরও তো দায়িত্ব রয়েছে। আদালত বলে, পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল করছে। এত মানুষ মারা যাচ্ছে, তাদের বিবেক কি একটুও জাগে না। এভাবে চলতে পারে না। আমাদের একটা সিস্টেমের মধ্যে আসতে হবে।
আদালত বলে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে প্রায় ৪৮ বছর। অনেক কিছুই এখনো শৃঙ্খলার মধ্যে আসছে না। দেশকে ভালোবাসতে হবে, দেশের জন্য কাজ করতে হবে। আমাদের সকলের দায়িত্ব রয়েছে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য অর্পিত দায়িত্ব পালন করা। আর দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে হলে অবশ্যই আইনের শাসন বাস্তবায়ন করতে হবে।
গতকাল বিআরটিএর পক্ষ থেকে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিবন্ধন আছে কিন্তু ফিটনেস নেই— এমন যানবাহনের সংখ্যা সারাদেশে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৩৬৯টি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে রয়েছে এক লাখ ৬৮ হাজার ৩০৮টি। বিআরটিএর রোড সেফটি বিভাগের পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রাব্বানী সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে ফিটনেস ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ির এ তালিকা দাখিল করেন। এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক, বিআরটিএর পক্ষে মঈন ফিরোজী ও দুদকের পক্ষে সৈয়দ মামুন মাহবুব শুনানি করেন। শুনানি শেষে ফিটনেসবিহীন ও রেজিস্ট্রেশন নবায়ন ছাড়া গাড়ি, ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন ছাড়া চালকের বিষয়ে জেলাভিত্তিক তালিকা চেয়েছে হাইকোর্ট। এছাড়া রেজিস্ট্রেশন ছাড়া গাড়ি ও লাইসেন্স ছাড়া চালকদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে কি না সেই বিষয়েও জানতে চেয়েছে আদালত। আগামী ২৩ জুলাই এ তালিকা দাখিল করতে বিআরটিএকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
‘নো ফিটনেস ডকস, ইয়েট রানিং’ শিরোনামে একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনলে হাইকোর্ট ফিটনেসবিহীন যান চলাচলের বিষয়ে তথ্য দাখিল করতে বিআরটিএ ও পুলিশের আইজিকে গত ২৭ মার্চ নির্দেশ দেওয়া হয়।