বিএনপিকে ক্রেন দিয়ে তুলে বিরোধী দলে বসানো গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গলজনক নয়

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বিএনপি হচ্ছে সেই দল যেই দলে খুনি, জঙ্গি, সাম্প্রদায়িক মহলকে রাজনৈতিক ছায়া দেওয়া হয়। এটি সাম্প্রদায়িক দল। সংসদে বা বাইরে যেখানেই থাকুক না কেন বিএনপি এখনো যুদ্ধাপরাধের বিচার, বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা, সংবিধানের চার নীতি ও স্বাধীনতার ঘোষণা মানে না। সুতরাং এটি একটি সংবিধান ও দেশবিরোধী দল। ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করা হয়। জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে বলার চেষ্টা করেন তারা। এ ধরনের রাজনৈতিক শক্তিকে ক্রেন দিয়ে তুলে বিরোধী দলে বসানো দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গলজনক না। অর্থনীতির উন্নতির ধারা অব্যাহত রাখতে হলে বিএনপির মতো সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গির দোসর দলকে বাংলাদেশের রাজনীতির ময়দান থেকে মাইনাস করতে হবে। গতকাল সোমবার সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ইনু বলেন, এখন রাজনীতির স্পেস নাই বলাটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। শান্তির শত্রুদের জন্য কোনো রাজনৈতিক স্পেস দেওয়া যায় না। গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে যারা গণতন্ত্রের পিঠে ছোবল মারে, তাদের জন্য মায়াকান্না গণতন্ত্রকে ধ্বংসই করে। অর্থনীতির সমৃদ্ধির জন্য রাজনীতির শান্তি দরকার। শেখ হাসিনার সরকারকে অনেক মূল্য দিয়ে সেই শান্তি অর্জন করতে হয়েছে। তাই শান্তির শক্তিতে অশান্তির হোতাদের কোনো ছাড় নাই। দমন ওদের করতেই হবে। আগুন সন্ত্রাস, জঙ্গি, খুনি, যুদ্ধাপরাধী ও দুর্নীতির বিচার প্রতিহিংসা না। এসব ক্ষেত্রে  কোনো ছাড় দেওয়া উচিত না। এমনও রাজনৈতিক শক্তি বিদ্যমান, যারা সামরিক শাসনের আমলে রাজনৈতিক বিষবৃক্ষ হিসেবে কাজ করেছে।

জাসদ সভাপতি বলেন, কালো টাকা বিনিয়োগের নামে বৈধ করার সুযোগ দিয়ে গত ১০ বছরে কোনো সুফল আসেনি। অর্থনীতিতে কোনো প্রভাব পড়েনি। ড. কামাল হোসেন ও খালেদা জিয়া ছাড়া এ সুযোগ আর কেউ  নেননি। আর কারা কারা নিয়েছেন জানি না। কারা কারা সুযোগ নিয়েছেন সেই তালিকা সংসদে প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। কালো টাকা ব্যবহার করার পক্ষে যতই সাফাই থাক না কেন, এটা অনৈতিক এবং সংবিধানের চেতনাবিরোধী। কালো টাকার কোনো ভূমিকা ছাড়াই আট শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। সেখানে কালো টাকা থেকে সাদা হওয়া অল্প টাকা এতবড় সাদা অর্থনীতির গায়ে কলঙ্ক লেপন করবে। আমি চাই না শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সাদা অর্থনীতির গায়ে কালো টাকার কলঙ্ক লাগুক। তাই মনে করি, এই কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাব প্রত্যাহার করা উচিত।

ইনু বলেন, জঙ্গি-সন্ত্রাসের পুনরুদ্ধারে সব ফাঁক-ফোকর বন্ধ করে রাজনৈতিক শান্তির ধারাকে টেকসই করা দরকার। ঋণখেলাপি ও লুটেরাদের কবল থেকে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতকে মুক্ত করতে হবে। দুর্নীতি ও লুটপাট  লোকসানের দুষ্ট চক্রের হাত থেকে রাষ্ট্রীয় খাতকে রক্ষা করতে হবে। কর ও রাজস্ব ফাঁকির ধারা বন্ধ করে জিডিপির অনুপাত এবং করের অনুপাত ১০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। শিক্ষা খাতকে ঢেলে সাজাতে হবে।

তিনি বলেন, ব্যাংকের আইন সংশোধন করা দরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বাধীনতা প্রয়োগ করুক। ব্যাংক কমিশন গঠন করার প্রস্তাব কার্যকর করা দরকার। ব্যাংকিং খাতের বিষফোড়া সার্জারি করার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রয়েছে। ইনু আরো বলেন, শেখ হাসিনার সরকার বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা অর্জন করেছে। সেই জন্য শেখ হাসিনা এবং তার সরকার জিপিএ-৫ এবং গোল্ডেন-৫ পাবেন। মোবাইল ফোনের টকটাইম এবং স্মার্ট ফোনে শুল্ক আরোপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, টকটাইমে বাড়তি কর চাপানোর জন্য এবং স্মার্টফোনে উচ্চহারে কর চাপানোয় ক্ষতি হবে। সঞ্চয়পত্রের ওপরে উেস কর ৫ থেকে ১০ শতাংশ করাটা নেতিবাচক হবে।