ইত্তেফাকের মুখোমুখি মনীষা কৈরালা

লিট ফেস্টের শেষদিনে মনীষা কৈরালা শোনালেন তার ক্যান্সার জয়ের গল্প। একজন গ্ল্যামার গার্লের মানসিক শক্তির স্বরূপ সন্ধান পেলেন উপস্থিত শ্রোতারা। বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে দ্য হিল্ড সেশনে শীর্ষক অধিবেশনে অংশ নেন মনীষা কৈরালা। বললেন, কেমন করে মৃত্যুকে পরাজিত করে জয় করেছেন জীবনকে। সেই সঙ্গে বলেছেন, বহিরাগত হয়েও কেমন করে জায়গা করে নিলেন বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে।       

২০১২ সালের ১০ ডিসেম্বর, সেদিন মৃত্যু এসে দাঁড়ায় আমার জীবনে। কিন্তু আমি মরতে চাইনি। আমি চোখ বন্ধ করেছিলাম, চোখ মেলে দেখি কালো হয়ে আসছে আমার আকাশ। নিজেকে আশ্বস্ত করলাম, এরমধ্য দিয়েই যেতে হবে আমাকে। এক সময় জানতে পারলাম আমার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ৪৪ শতাংশ, উল্টোপিঠে মৃত্যুর ঝুঁকি ৫৬ শতাংশ। আমার হার্টবিট বেড়ে গেল। সবকিছু যেন থমকে গেল। তবে অসহনীয় শারীরিক যাতনার মধ্যেও হাল ছাড়িনি। ঝাঁপিয়ে পড়লাম জীবনযুদ্ধে।

মনীষা বলে যান, প্রথমে হাসপাতাল থেকে কেউই আমাকে কিছু জানাচ্ছিল না। পরিবারের সবাই এসে হাজির হলো হাসপাতালে। সবার মুখে ভয় দেখলাম। কিন্তু কেউ কিছু বলছে না। শুরুতে চিকিত্সকরাও কিছু জানাতে চাচ্ছিল না। একপর্যায়ে পরীক্ষা করার পর জানানো হলো, লিড স্টেজে ছড়িয়ে পড়েছে আমার ক্যান্সার। বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকলাম চিকিত্সকের দিকে। এক সময় বলা হলো, আমার জড়ায়ুতে ক্যান্সার হয়েছে এবং সেটা কেটে ফেলে দিতে হবে। আমি সন্তানের মা হতে চেয়েছিলাম। তখন উপলব্ধি হলো, আমি কখনো মা হতো পারবো না। এভাবেই আমার জীবনের নিঃসঙ্গ রাত শুরু হলো। সেইসাথে শুরু আমার ভয়ঙ্কর দিনগুলো। কথা বলতে বলতে মনীষার চোখের কোণ গড়িয়ে ঝরে পড়ে বেদনার অশ্রুজল।

চিকিত্সা পর্ব নিয়ে মনীষা বলেন, আমার বন্ধু, পরিবার সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলো কোথায় আমার অপারেশন করবে। কেউ বললো যুক্তরাষ্ট্র, কেউ ব্যাংকক, কেউবা মুম্বাই। ক্যান্সার চিকিত্সায় অনিশ্চয়তার বিষয়টি উল্লেখ করে মনীষা বলেন, মুম্বাইয়ের চিকিত্সকরা যখন বললো এই সার্জারি খুবই কমপ্লিকেটেড তখন শুভাকাঙ্ক্ষিদের পরামর্শে চিকিত্সার জন্য গেলাম যুক্তরাষ্ট্রে। ক্যান্সার চিকিত্সা অনেক অনিশ্চয়তার বিষয়। শুধু অপেক্ষা আর অপেক্ষা। এই নিয়ে আমার  হিল্ড শীর্ষক বইয়ে একটা চ্যাপ্টার আছে, নাম ইন্তেজার। ক্যান্সার চিকিত্সায় কয়েকটি ধাপ আছে। প্রথমত, অপারেশন সফল হতে হবে। দ্বিতীয়ত অপারেশন পরবর্তী চিকিত্সা যথাযথ হতে হবে। সেইসঙ্গে আছে কেমোথেরাপি। সব চিকিত্সা শেষ হওয়ার পর চিকিত্সককে জিজ্ঞেস করলাম, আমি কী বাঁচবো এখন?

এ সময় মনীষা তার লেখা বইয়ের কয়েকটি লাইন তুলে ধরে বলেন, ক্যান্সার আমাকে বদলে দিয়েছে। আমি ভেতর থেকে বদলে গিয়েছি। আমার পৃথিবীও বদলে গেছে। আমি জীবনকে উপভোগের দ্বিতীয় সুযোগ পেয়েছি। তাই মরতে চাই না। এক অর্থে ক্যান্সার আমার জীবনের শিক্ষক। এটাকে আমি ইতিবাচকভাবে দেখি। এই রোগ থেকে জীবনের মূল্য বুঝেছি। একইসঙ্গে নিজেকে কঠিন ও মজবুতভাবে তৈরি করতে শিখেছি। এখন জীবনটাকে ভালোবাসার উপহার বলে মনে হয়। লাইফ ইজ ফুল অব পজেটিভ স্টোরিজ।