ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ার বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার ঠিক ১০০ দিন আগে গতকাল প্রকাশিত হলো টুর্নামেন্টটির চূড়ান্ত সূচি। যেখানে দেখা যায় নির্ধারিত ১০ ভেন্যুর মধ্যে ৬টিতেই খেলবে গ্রুপপর্বের ৯টি ম্যাচ। ধর্মশালায় ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করবে তামিম ইকবালের দল। পরের ম্যাচটিও হবে এখানে। কিন্তু পরের দিকে খেলতে হবে যথাক্রমে চেন্নাই, পুনে, মুম্বাই, কলকাতা হয়ে আবার পুনেতে। আর ভারত বড় দেশ হওয়ায় ভেন্যুগুলো বেশ দূরে দূরে অবস্থিত। এতে করে প্রায় প্রতিটি ম্যাচের আগেই টাইগারদের বড় ভ্রমণ করতে হবে। আর এ বিষয়টি নাকি আগে থেকেই জানত বিসিবি।
মূলত আইসিসির একটি খসড়া সূচি কয়েক সপ্তাহ আগেই হাতে এসেছিল বিসিবির। তবে নিয়ম না থাকায় তা গোপন রাখা হয়। পরে গতকাল সূচি প্রকাশের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অপারেশন্স চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস নিজ বাসায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা তো আরো ২-৩ সপ্তাহ আগেই জেনে গিয়েছিলাম। আইসিসির থেকে একটা খসড়া সূচি পেয়েছিলাম আমরা। বাইরে বলা নিষেধ ছিল। তাই আমরা বলিনি। তবে কম-বেশি আমরা জানতাম কোথায় কী হবে। শুধু একটা পরিবর্তন আছে। আমরা আগে পেয়েছিলাম যে, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে খেলাটা হবে বেঙ্গালুরুতে। সেটা এখন বদলে গেছে চেন্নাইয়ে। চেন্নাইতে হওয়ায় আমাদের জন্য ভালো হয়েছে। আমরা মনে করি আমাদের জন্য মানানসই।’
এসময় খেলার আগে ভ্রমণ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আর আমরা জানি যে, কোথায় কোথায় গিয়ে খেলতে হবে। ছয়টা ভেন্যুতে খেলা হচ্ছে। ভ্রমণ বেশি। প্রথম দিকে ভ্রমণ একটু কম। তবে পরের দিকে ভ্রমণটা বেশি। উত্তর থেকে দক্ষিণে আবার দক্ষিণ থেকে উত্তরে যেতে হবে। আমরা এটা নিয়ে বিচলিত নই। ওভাবেই আমরা মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছি যে, কোথায় কোথায় খেলতে হবে। অনেক ক্রিকেটারই হয়তো ভারতের অনেক ভেন্যুতে খেলেনি। অনেকে আবার অনেক ভেন্যুতে খেলেছে। সেজন্য আমাদের কোনো সমস্যা হবে না।’
এদিকে আসন্ন বিশ্বকাপে টাইগারদের স্কোয়াড কেমন হবে তা নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই চলছে আলোচনা। সাধারণত বিশ্বকাপে ১৫ জন ক্রিকেটার স্কোয়াডে রাখা যায়। শোনা যাচ্ছে-এর সঙ্গে হেড কোচের চাওয়াতে দলের সঙ্গে থাকতে পারেন আরো তিন জন। আর বাংলাদেশের হাতে বর্তমানে বেশ কিছু খেলোয়াড় তাদের মধ্যে কারা যাচ্ছে বিশ্বকাপে এ নিয়েই মূলত আলোচনা।
এ নিয়ে ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এসব সিদ্ধান্ত টিম ম্যানেজম্যান্টের হাতে। তিনি বলেন, ‘দেখেন, এই পরিকল্পনাটা, বাছাইটা আমরা করিনি। মূল একাদশে কোনো ১৫ জন যাবে, বাড়তি হিসেবে কারা যাবে, রিজার্ভ হিসেবে কারা ঢাকায় থাকবে-এটা একটা বড় পরিকল্পনার ব্যাপার। একটু আগে যেটা বললাম, যেহেতু আমাদের এখন বিকল্প অনেক ক্রিকেটার আছে, সবাই ১৯-২০। তাই মূল ১৫ জন গুরুত্বপূর্ণ। সেখানেই মূল মনোযোগ থাকবে।’