জাল দলিল করে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম মাদারীপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট গোলজার আহমেদ চিশতি (মোস্তফা) বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম মাদারীপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট গোলজার আহমেদ চিশতি (মোস্তফা) ১৯৬১ সালের ৬৩৩৬ নম্বরের দলিল সৃষ্টি করে দখল করেছেন সরকারি (অর্পিত) সম্পত্তি। গোলজার চিশতি প্রতারণামূলকভাবে মাদারীপুর পৌরসভার পানিছত্র মৌজার এসএ ২২৩ দাগের ১৮ শতাংশ জমি ভুয়া দলিলের মাধ্যমে দখল করে নেন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ছিলারচর মৌজার ১৯৬১ সালের ৬৩৩৬ নম্বরের প্রকৃত দলিলের দাতা-হরিচরণ মন্ডল, গ্রহীতা-শুকুর মাহমুদ সরদার ও কালাচান সরদার। কিন্তু তার সৃষ্ট দলিলের জমির দাতা, গ্রহীতা ও মৌজা পুরোপুরি ভিন্ন। ভুয়া দলিল সৃজনের ক্ষেত্রে তিনি ‘গোলাম চিশতি’ নামে কল্পিত ব্যক্তির সৃষ্টি করেন। পরবর্তীকালে কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তায় নিজেই ঐ কল্পিত ভাইয়ের কাছ থেকে হেবা দলিল (দলিল নং- ৩২৭/৯৮) করে এসএ রেকর্ডে থাকা সরকারি অর্পিত সম্পত্তি নিজের নামে মিউটেশন ও রেকর্ড সংশোধন করে নেন। এই হেবা দলিলের সই মুহুরী দলিল পর্যালোচনায় ১৯৬১ সালের ৬৩৩৬ নম্বর দলিলের গ্রহীতা হিসেবে তার ভাই ‘গোলাম চিশতি’ এর উল্লেখ পাওয়া যায়।
যদিও স্থানীয় অধিবাসী ও নিকটাত্মীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গোলজার আহমেদ চিশতিরা তিন ভাই। তাদের কারোর নামই ‘গোলাম চিশতি’ নয়। জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে দলিল তৈরির পাশাপাশি আরও দলিল সৃষ্টির উদ্দেশ্যে জনৈক আইরিন আফরোজ মুন্নির সঙ্গে বায়নাপত্র করে আদালতে মামলা করিয়ে সরকারি ঐ জমির থেকে ১৪.৮৫ শতাংশ জমি ৩৮৭০/১৩ দলিল মূলে বিক্রি করে দেন। এ ছাড়া ১৯৬১ সালের ৭৩২২ নম্বর ভুয়া দলিলের মাধ্যমে মাদারীপুর পানিছত্র মৌজার আরও সরকারি জমি তিনি নিজ নামে রেকর্ড করে নিয়েছেন। ১৯৬১ সালের ৭৩২২ নম্বর প্রকৃত দলিলের দাতা-বনা বিবি, গ্রহীতা- মহরজান বিবি ও আনছারদ্দীন হাওলাদার এবং মৌজা-ধুরিয়াইল। মাদারীপুর সদর সাব জজ আদালতে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে দখল সংক্রান্ত মামলা চলাকালীন সময়ে তার এই জাল-জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ পায়। এই মামলা চলাকালীন আদালতে এ্যাডভোকেট গোলজার আহমেদ চিশতি (মোস্তফা) তার স্বাক্ষরিত হলফনামায় ১৯৬১ সালের ৬৩৩৬ নম্বর দলিলের কথা উল্লেখ করেন। যদিও ১৯৬১ সালের ৬৩৩৬ নম্বর ও ৭৩২২ নম্বর দলিলের সই মহুরী নকল প্রতিবেদকের কাছে আসে।
জেলা রেজিস্ট্রার রুহুল কুদ্দুস শিবলী বলেন, ১৯৬১ সালের ৬৩৩৬ নম্বর দলিল সরকারি বালাম বই অনুসারে পানিছত্র মৌজার নয়। উক্ত নম্বরের দলিল পানিছত্র মৌজার তো নয়ই, এমনকি দাতা গ্রহীতার কেউ ‘গোলাম চিশতী’ নন। ওগুলো ভুয়া দলিল।
অন্যদিকে মাদারীপুর সদর উপজেলার পানিছত্র মৌজার মূল্যবান অর্পিত সম্পত্তি প্রতারনামূলকভাবে জাল জালিয়াতির করে ব্যক্তিনামে বিআরএস রেকর্ডভুক্তকরণের মাধ্যমে আত্মসাৎ ও সরকারি স্বার্থ ক্ষুণ্ণকরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর দরখাস্ত করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কল্পনা রানী সাহা।
এ ব্যাপারে আইরিন আফরোজ মুন্নির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি টাকা দিয়ে জমি কিনেছি। মিউটেশন করেছি। কোনো সরকারি জায়গা দখল করি নাই।
এ বিষয়ে এ্যাডভোকেট গোলজার আহমেদ চিশতির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কোনো সরকারি জায়গা দখল করিনি।
মাদারীপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এই বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান বলেন, সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও তদন্ত করে আমার কাছে রিপোর্ট পেশ করার জন্য।
এদিকে বর্তমান আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে বিএনপি নেতার এমন জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি জমি দখলের খবরে মাদারীপুর শহরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনি পেশায় থেকে এ ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলাসহ জেলা আইনজীবি সমিতির ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।