বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজের বাংলাদেশ সফর মাতিয়ে গেলো বাঙালি ফুটবল প্রেমিকদের। নিজের চোখে এমিকে দেখা অনেক ফুটবল প্রেমি তরুণের স্বপ্ন। কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ এর উন্মাদনার রেশ মোট কথায় আর্জেন্টাইন ভক্তদের জন্য এখনো সতেজ। মেসির শেষ বিশ্বকাপে বিজয় কামনা ছিল প্রত্যেকটি আর্জেন্টাইন ভক্তের একমাত্র প্রতিপাদ্য। পরিশেষে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয় ছিল সকল ভক্তের স্বপ্ন পূরণ, এই স্বপ্ন তারা বুনেছেন দশকের পর দশক।
ম্যারাডোনা থেকে মেসি, রোমা থেকে এমিলিয়ানো- বাঙ্গালির ফুটবলপ্রেম ছিল তুমুল। চার দশকের নিরবিছিন্ন সমর্থনের পর বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তরা তাদের উন্মাদনার মাধ্যমে স্বাক্ষর রেখে গেল আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে।
আর্জেন্টিনা -মেক্সিকো ম্যাচ এ আর্জেন্টিনার জয়ের সময় ফিফা নিজেই বাংলাদেশী ভক্তদের উল্লাস করার একটি ক্লিপ শেয়ার করেছে। এর পরপরই সমগ্র বিশ্ব বাঙ্গালীদের আর্জেন্টিনার প্রতি আবেগ-উল্লাস সম্পর্কে জানতে পারে, আর্জেন্টিনার অনেক মিডিয়া সূত্র বাংলাদেশি আর্জেন্টিনা ভক্তদের উন্মাদনা এবং তাদের ভক্তিতে বিস্মিত হয়েছে, আনন্দে বুয়েনস আইরেসে উড়েছে আর্জেন্টিনার পাশাপাশি বাংলাদেশের পতাকা।
তুমুল প্রচারণা শেষে আলোচনায় উঠে আসেন বাংলাদেশের আর্জেন্টাইন ফ্যানবেইজ এর একটি মুখ, গল্পটি ২৩ বছর বয়সী একজন ফুটবলপ্রেমিক ফাহিম। ফাহিম সংরক্ষণ করেছেন আর্জেন্টিনা দলের শুরু থেকে বর্তমানের সকল জার্সি। নিজের প্রিয় দল আর্জেন্টিনা এবং প্রিয় খেলোয়াড় মেসি এবং মার্টিনেজ এর খেলা দেখতে পাড়ি জমান আরব আমিরাতের আবুধাবিতে। কল্পনা করেননি কখনো স্টেডিয়ামে বসে দেখা মার্টিনেজের সাথে ছবি তুলতে পারবেন।
কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচ এর সব টিকেট বিক্রি হয়ে যাওয়ায় বিড়ম্বনায় পড়েন এই ফুটবলপ্রেমিক। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনা টিম এর বাংলাদেশ এ আগমনের নানা খবরাখবর চলতে থাকে, তবে এমিলিয়ানো মারটিনেজকে বাংলাদেশে স্বচক্ষে দেখার দৃশ্য তিনি কল্পনাও করেননি। ফাহিম বলেন, “স্বপ্নেও কল্পনা করিনি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এমির সাথে দেখা করতে পারবো।”
তিনি আরও বলেন, “এমির সাথে সেলফি তোলা তার জীবনে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে ভালো মুহূর্তের মধ্যে একটি।" ফাহিম বলেন, “আমার পরবর্তী স্বপ্ন মেসির সাথে দেখা করা, তার সাথে ছবি তোলা। আমি মার্টিনেজের বাংলাদেশে আসার খবর শুনলেও বিশ্বাস করিনি, কিন্তু এখন তার সাথে সেলফি তুলেছি।
নিজের মধ্যে অনেক বিস্ময় এবং আনন্দ নিয়ে এমনটাই বলছিলেন খন্দকার ফাহিম। ২৩ বছর বয়সি এই বাংলাদেশি যুবক অনেক আগে থেকেই আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের একজন সক্রিয় ভক্ত-সমর্থক। সখের বশে নিজের সংগ্রহে রেখেছেন আর্জেন্টিনা দলের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিটি জার্সিও। তবে কখনও স্বপ্নেও ভাবেননি তার প্রিয় আর্জেন্টিনা দলের সেই প্রিয় প্লেয়ারদের সানিধ্য পাবেন।
গতবছর ১৬ নভেম্বর আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত গ্লোব সোকার এওয়ার্ড অনুষ্ঠানে যে ফাহিমের প্রিয় খেলোয়াড় লিউনেল মেসি ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের খেলে দেখেন স্টেডিয়ামে বসে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর শিহাব হাসান নিয়নের সাথে। তবে সে দেখা ছিল একদম ধরা ছোয়ার বাইরে। তবে তখন থেকে ফাহিম স্বপ্ন লালন করতে থাকেন প্রিয় খেলোয়াড়দের সাথে সরাসরি দেখা করার। কিন্তু এর পরবর্তী সময়ে কাতার বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় বলে আর্জেন্টাইন সব খেলোয়াড় সেখানে পাড়ি দেন, আর ফাহিমের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। আর্জেন্টিনার ভক্ত-সমর্থক খন্দকার ফাহিম আশা না ছেড়ে কাতার বিশ্বকাপ দেখার জন্য তৈরি হন। তবে ভাগ্য অনুকূল না হলে যা হয়, কাতারে যাওয়ার পরিকল্পনা করার পর জানতে পারেন যে টিকিট সব শেষ! সে গুড়ে বালি!
খন্দকার ফাহিমের শত আশা-আকাঙ্ক্ষার অনেকটাই পূর্ণতা পায় তেশরা জুলাই, ২০২৩ এ এসে। ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে ঢাকায় এসে পৌছান বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। দুর্দান্ত ক্রিড়া নৈপুণ্য দেখিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে দেশের মানুষের মন জয় করা এই খেলোয়াড়ের সাথে দেখা করেন ফাহিম। তার সাথে দাড়িয়ে সেলফি তোলারও সুযোগ হয় ভক্ত-সমর্থকদের। ফাহিম ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। এজন্য তাকে সাহায্য করেছেন আয়মান ও নিয়ন। তারা তার দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।