পিতা সেকান্দার আলী মোল্লার মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে নিয়ে শুরু হয় মায়ের সংগ্রাম। মা রাশিদা বেগমের একান্ত চেষ্টায় স্কুল-কলেজের সীমা পেরিয়ে তিনি পা রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। গল্পের শুরুটা সেখান থেকেই। বলছিলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রভাষক সাথী আক্তারের কথা। যিনি গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ সমাবর্তনে তত্কালীন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদের নিকট হতে ‘প্রফেসর মোফাসসিল উদ্দিন আহমেদ ট্রাস্টফান্ড স্বর্ণপদক ও পুস্তক পুরস্কার’ গ্রহণ করেন। ২০১৮ সালে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। তবে এজন্য তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে কঠোর অধ্যবসায়ের পথ।
শিক্ষাজীবনের শুরুতে সাভারের গাজিরচট এএম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি। কলেজ জীবন অতিবাহিত করেছেন বিপিএটিসি স্কুল অ্যান্ড কলেজে। এখানেও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছেন। ২০১৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে ভর্তি হন সাথী আক্তার। যেখান থেকে তিনি অর্জনের ঝুলিতে ভরেছেন স্বর্ণপদক। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন পড়াশোনাকে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে আগত শিক্ষার্থীদের জন্য দর্শন বিষয়টা শুরুতে একটু কষ্টসাধ্যই বটে। তবে একবার আগ্রহের জায়গাটা খুঁজে পেয়ে গেলে বিষয়টা হয়ে যায় ভালোবাসার। ঠিক তেমনটাই হয়েছে সাথী আক্তারের ক্ষেত্রে।
দর্শন বিভাগে পড়লে ক্যারিয়ারের অনেক দরজাই বন্ধ হয়ে যায়, এমন ধারণা অনেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুর স্যারের কাছে গবেষণা পদ্ধতি শিখেছি এবং সবচেয়ে বড় কথা— আমি দর্শনে পড়ে কী কী অসম্ভব তা ভাবা বাদ দিয়ে আমার সামনে উন্মুক্ত সম্ভাবনাগুলো সম্পর্কে জেনেছি। আমার সংকল্পকে ধরে রাখার ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শকের ভূমিকায় থাকার জন্য স্যারের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’ কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি স্নাতকোত্তরে থিসিস গ্রুপে ৪.০০ এ ৪.০০ পেয়েছেন। যা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের ইতিহাসে প্রথম। স্নাতক পর্যায়েও তিনি বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন। তিনি থিসিস সম্পন্ন করেছেন Metaphysics of ethics-এর ওপর। ইতোমধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় A Comprehensive Understanding Of free will শিরোনামে তার একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে।
তিনি তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে গেলেও পথচলা কিন্তু থামিয়ে রাখেননি। উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার ইচ্ছেও রয়েছে তার। শিক্ষার্থীদের জন্য তার পরামর্শ— লক্ষ্য স্থির রাখতে হবে সবসময়। লক্ষ্য স্থির থাকলে সফলতা আসেই। এক্ষেত্রে ব্যর্থতার হার খুবই সামান্য।’