মৌসুমি ফলের মধ্যে আমের চাহিদা অন্যান্য সব ফলের তুলনায় বেশি। আমের মাঝেও আবার আছে নানা প্রজাতি। ল্যাঙড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর, ফজলি, হাড়িভাঙা প্রভৃতি জাতের নানা স্বাদের আম। তবে ফরমালিন ও ক্যালসিয়াম কার্বাইডের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে আমের মান ও গুণ ব্যাপকভাবে বিনষ্ট হওয়ার কারণে সুস্বাদু ও লোভনীয় এই ফলটি উপভোগ করতে পারছেন না ভোক্তারা। এ বিষয়টি মাথায় রেখে সুস্বাদু ও রাসায়নিকমুক্ত আম বাজারজাত করছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। তাদের উদ্যোগের নাম 'আমগো-Mango'।
শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম ও তার কয়েকজন বন্ধু মিলে শুরু করেছেন ঘরে ঘরে আম পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ। রাইসুল কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে অধ্যয়নরত। তিনি উত্তরবঙ্গের রাজধানীখ্যাত বগুড়া থেকে পড়াশুনার সুবাদে ঢাকায় এসে ফল, শাকসবজি ও বিভিন্ন খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার দেখে সিদ্ধান্ত নেন ভেজালমুক্ত খাবার বাজারজাতের উদ্যোগ নেবেন। শুরু করেন আম দিয়ে। তার সঙ্গে কাজ করছেন সহপাঠী রাজশাহীর আবরার নাসিফ, টাঙ্গাইলের লাবিবুল আহসান আলিফ ও সাজিদ আহমেদ, নওগাঁর আতিক ইনতেশার জাফি, ঢাকার ভূপেন শীল ও যুবরাজ আহমেদ, বরিশালের আশরাফুল আলম ও মাহাদি আবির মারুফ এবং মুন্সীগঞ্জের রিদুয়ান সরকার। তারা প্রত্যেকেই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়নরত রয়েছেন।
রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিজস্ব বাগান থেকে সংগ্রহ করে মানুষের বাড়িতে আম পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। রাইসুল ইসলাম বলেন, খাবারে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে। আমাদের উদ্যোগটি ছোট, কিন্তু আমরা একটা ইতিবাচক বার্তা দিতে চাই, তা হলো, খাবারে কোনো ভেজাল নয়। যেকোনো ফল বা খাবারের সর্বোচ্চ গুণগত মান নিশ্চিত করার ব্যাপারে আমরা যেন সচেষ্ট হই।