ইবির হলে গ্রিল কেটে চুরির অভিযোগ 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলের একটি কক্ষে চুরির অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হলের ১১৭ নম্বর কক্ষে ব্যালকনির গ্রিল কেটে এ চুরির ঘটনা ঘটে। তবে কবে এ চুরি সংগঠিত হয়েছে তা নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।

ধারণা করা হচ্ছে ঈদুল আজহার ছুটি চলাকালীন এ চুরি হয়ে থাকতে পারে। ছুটি শেষে ঐ কক্ষের বাসিন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল' অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম হলে প্রবেশ করতে গেলে চুরির বিষয়টি নজরে আসে। 

জানা যায়, চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে একটি ডেক্সটপ কম্পিউটার, রাউটার, মাইক্রোফোন ও ট্রাইপড। এরমধ্যে চুরি হওয়া ডেক্সটপ কম্পিউটারের মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা।  

এবিষয়ে ভুক্তভোগী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে আমি গত ২৩ জুন বাড়ি যাই। পরবর্তীতে গতকাল ৭ জুলাই বিকাল ৫টার দিকে হলে প্রবেশ করি। এসময় আমার রুমের তালা খুলতে গেলে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পাই। পরে অনেক চেষ্টায় দরজা খুলতে ব্যর্থ হলে বিষয়টি আমি হলের দায়িত্বরত আনসারকে জানাই এবং তাকে নিয়ে রুমের পেছন দিকে এসে জানালার গ্রিল কাটা দেখতে পাই। একইসঙ্গে ব্যালকনির দরজাও খোলা পাই।

ইসলামী

বিষয়টি আমি তৎক্ষণাৎ হল প্রভোস্টকে অবহিত করি এবং তার সাথে আমার রুমে প্রবেশ করি। সবকিছু এলোমেলো অবস্থায় পেয়েছি। রুমে আমার একটি ডেক্সটপ ছিল। সেটি চুরি হয়েছে। তাছাড়া আমার আরও দুই জন রুমমেট রয়েছে তাদের কি কি চুরি হয়েছে আমি জানি না। আমার একজন রুমমেটের দৃষ্টিশক্তির সমস্যা। যার কারণে সে ভিডিও ম্যাগনিফাইং ডিভাইসের সহায়তায় পড়াশোনা করেন। চোর তার সেই ডিভাইসটি না নিয়ে গেলেও ভেঙে রেখে গিয়েছে।
 
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি ইনচার্জ মো. আব্দুস সালাম বলেন, আমরা নিরাপত্তা কাউন্সিলের মিটিংয়ে হল গুলোর পেছনে সিকিউরিটি লাইট ও পরিস্কার করার দাবি জানিয়েছিলাম যাতে নিরাপত্তা কর্মীদের দায়িত্ব পালনে সুবিধা হয়। তবে কিছু কিছু হলের পেছনে তা করা হয়নি। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার সময় আমাদের নিরাপত্তা বলয় ছিল। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি।

এ বিষয়ে জিয়াউর রহমান হলে প্রভোস্ট প্রফেসর ড. শেখ এ.বি.এম জাকির হোসেন বলেন, চুরির বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। হলের সামনের ও পেছনের ঝোপঝাড় পরিষ্কারও করিয়েছি তবে সময় কম থাকায় পুরোপুরি করতে পারিনি।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, প্রভোস্ট আমাকে চুরির বিষয়টি জানিয়েছে। তবে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। এটা যেহেতু হলের ঘটনা তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। আমরা সহযোগিতা করবো।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের আগে মিটিংয়ে নিরাপত্তা জোরদারের স্বার্থে আমরা স্ব-স্ব হলের প্রভোস্টদের হলের চারপাশ পরিস্কার ও সিকিউরিটি লাইট দিতে বলেছিলাম। তবে কিছু হলে তা করা হয়নি। নিরাপত্তা কর্মীরাও সেদিকে ভালোভাবে যেতে পারেনি। তাই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত চুরির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।