ভারতের মেঘালয় থেকে থেকে নেমে আসা ঢল ও প্রবল বৃষ্টির কারণে সিলেটের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ মাসের প্রথম দিকে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৯ উপজেলা প্লাবিত হয়। এর পর পানি কমলে অবস্থার উন্নতি হয়। কিন্তু বুধবার রাতে আবারও প্রবল বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় সুনামগঞ্জ শহরের নিকটে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড পানি উন্নয়ন বোর্ড। জেলার বিভিন্ন স্থানের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ জেলা শহরে আবারও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
অপরদিকে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় হঠাৎ করে নেমে আসা ঢলে সেখানকার নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাড়ি-ঘরে পানি উঠেছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে খাসিয়ামারা ও চিলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জিরাগাও নদীর পূর্ব পাড়ে অর্ধশতাধিক বসতঘরে পানি উঠেছে। অনেক ঘরের সামনে পানি ঢেউ খেলছে।
চিলাই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে উপজেলার বাংলাবাজার-বোগলাবাজার সড়কের রাবারড্যাম্প সংলগ্ন কালভার্টের মাটি সরে যাচ্ছে। যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা, বন্ধ হয়ে যেতে পারে বাংলাবাজার টু বোগলাবাজার যোগাযোগ ব্যবস্থা।
এলাকাবাসীরা বলেন, সীমান্তঘেষা দোয়ারাবাজারের ওপর থেকে নেমে আসা ঢল বিপজ্জনক। হঠাৎ ঢল নেমে বাড়ি-ঘর রাস্তাঘাট ডুবিয়ে দেয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ মোর্শেদ মিশু বলেন, পাহাড়ি ঢলে বসতঘরে পানি উঠেছে। ক্ষতি হলে ইউপি চেয়ারম্যানদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া আছে, তারা ব্যবস্থা নিবেন। বাংলাবাজার টু বোগলাবাজার সড়ক কালভার্টের নিচে বস্তা দিয়ে খুব দ্রুত মেরামত করা হবে। এদিকে সিলেট জেলার কানাইঘাটেও সিলেট শহরের নিকট সুরমা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে অন্যান্য নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।