রেকর্ড গড়ার ভালো লাগা বুঝতে পারব অবসরের পর: সাকিব

বাংলাদেশের জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু সাকিব আল হাসানের এরপর কেটে গেছে প্রায় ১৭ বছর। টাইগারদের হয়ে তিন ফরম্যাটেই অমানবীয় পারফরম্যান্সের কারণে ইতিমধ্যে তোলপাড় করে ফেলেছে ক্রিকেট ইতিহাসের বিভিন্ন রেকর্ড পেছনে ফেলেছে অনেক কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের। এতে করে নিজেকে নিয়ে গেছে অন্য এক পর্যায়ে। তবে ব্যক্তিগত এত রেকর্ড এত অর্জন করার পরও নিজেকে নিয়ে সেইরকম কোনো রোমাঞ্চ কাজ করে না বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডারের মধ্যে। তার লক্ষ্য শুধুই মাঠে টাইগারদের হয়ে বিশেষ অবদান রাখা। জয় কিংবা পরাজয় ফলাফল যা-ই হোক, দলের হয়ে সেরা করাই তার উদ্দেশ্য। এছাড়া আগেই জানিয়েছিল ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে তার খেলা শেষ বিশ্বকাপ। বর্তমানে তার টাইগার টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক অপেক্ষা করছেন সেটিরই। সেখানে দলের হয়ে দারুণ কিছু করার জন্যই মুখিয়ে আছেন তিনি।

সবশেষ ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত হওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসান দেখিয়েছিলেন তার সেরা অলরাউন্ডার রূপ। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়া সেই আসরটিতে ৮ ম্যাচে ব্যাট হাতে ৮৬.৫৭ গড়ে ৬০৬ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নেন ১১ উইকেট। এতে করে সেবার বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপের এক আসরে কমপক্ষে ৫০০ রান ও অন্তত ১০ উইকেট নেওয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়েন সাকিব। তবে সেই আসরে দল থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স না পাওয়ায় ভালো কিছু অর্জন করা হয়নি বাংলাদেশের। আর কিছুদিন পর মাঠে গড়াবে ওয়ানডে বিশ্বকাপের আরেকটি আসর। এবারও সাকিব চান বড় কিছু করে স্মরণীয় করে রাখতে আসরটি। গতকাল সিলেটে সাকিব আল হাসান সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ উপলক্ষ্যে। তবে তাকে সামনে পেয়েই সিরিজের বাইরে আলোচনা নিয়ে গেল আসন্ন বিশ্বকাপে। আর এ বিষয়ে বেশ আগ্রহ নিয়েই কথা বললেন সাকিব। এ সময় আগে থেকেই বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার জানিয়ে দিলেন গত আসরের মতো তিনি ভারতেও দলের হয়ে ব্যাটিং এবং বোলিংয়ে অবদান রাখতে চান।

সাকিব আল হাসান।

এ পর্যন্ত মাঠে অসংখ্য রেকর্ড গড়া সাকিব আফগানিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ ম্যাচে গড়েছেন অনন্য এক কীর্তি। সিরিজের সব শেষ ওয়ানডে ম্যাচে ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে পূরণ করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৪ হাজার রান ও ৬০০ উইকেটের ‘ডাবল’। তবে এবারই প্রথম নয়, আর আগেও তার হাত ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে তো বটেই, বিশ্ব ক্রিকেটেই এরকম অনেক ‘প্রথমের’ জন্ম হয়েছে। তবে সবশেষ তার নতুন মাইলফলক ছোঁয়ার প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান অবাক করার মতো এক তথ্য। বলেন, ‘যে কোনো মাইলফলকই অবশ্যই প্রেরণা জোগায়। এরকম কিছু হলে তো অবশ্যই নিজের কাছে ভালো লাগবে, আরও বেশি প্রেরণা কাজ করে ভালো করার জন্য। তবে আলটিমেটলি কতটা ভালো লাগতে পারে, এটা হয়তো অবসরের পর বুঝতে পারব। তবে আমি যেটা সবসময় বলে থাকি যে, দলের জন্য অবদান রাখতে চাই এবং যেহেতু দুটি দিক আমার আছে (ব্যাটিং ও বোলিং) এবং দুই দিকে অবদান রাখতে পেরেছি, এটা অবশ্যই আমার কাছে ভালো লাগার একটা জিনিস।’