বাজেটে রডসহ স্টিলজাতীয় পণ্যের ওপর বিভিন্ন স্তরে ভ্যাট, শুল্ক ও কর বসানোয় প্রতি টনে প্রায় ১২ হাজার টাকা দাম বাড়বে বলে মনে করছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। তাঁরা বলছেন, বাজেট পাসের সময় স্টিল রডের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না এলে বাড়তি দরে বিক্রি করতে হবে। সেক্ষেত্রে রড ও স্টিলজাতীয় পণ্য সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে পারে। ফলে ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকাজের গতিও শ্লথ হয়ে যেতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এ খাতের তিনটি সংগঠনের নেতারা। সংগঠনগুলো হলো বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ), বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং মিলস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ স্টিল মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মানোয়ার হোসেন বলেন, স্টিল পণ্যের দাম সহনীয় থাকায় দেশের অবকাঠামো ও গ্রাম পর্যায়ে গত এক দশকে আবাসন নির্মাণে বড় অগ্রগতি হয়েছে। ২০০৮ সালে দেশে স্টিলের ব্যবহার ছিল মাত্র ১৬ লাখ টন। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ লাখ টনে।
আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে রডের কাঁচামাল স্ক্র্যাপ বিক্রিতে টনপ্রতি ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলেট বিক্রিতে টনপ্রতি ৪৫০ টাকার স্থলে ২ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উত্পাদন পর্যায়ে প্রতি টন রডে ৪৫০ টাকার পরিবর্তে ২ হাজার টাকা ভ্যাট এবং খুচরা পর্যায়ে রড বিক্রিতে প্রতি টনে ২০০ টাকার পরিবর্তে ৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাজেটে রডের কাঁচামাল স্ক্র্যাপ, বিলেট ও রড বিক্রিতে টনপ্রতি ৩ শতাংশ অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের এই কর ও ভ্যাট বাস্তবায়িত হলে প্রতি টন রডের দাম ১২ হাজার ৩০০ টাকা বৃদ্ধি পাবে। ফলে খুচরা পর্যায়ে রডের দাম টনপ্রতি ৭৫ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকতে পারে।
অবশ্য সম্প্রতি এক প্রজ্ঞাপনে বিলেট বিক্রয়ে অগ্রিম আয়কর ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। উদ্যোক্তারা স্ক্র্যাপ বিক্রিতে টনপ্রতি ৪৫০ টাকা, বিলেটে ৭৫০ টাকা, রডের উত্পাদন পর্যায়ে ৭৫০ টাকা ও বিক্রয় পর্যায়ে ৩০০ টাকা ভ্যাট আরোপ করার দাবি জানান। এ ছাড়া স্ক্র্যাপ ও বিলেট বিক্রিতে অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করে কেবল রডের ওপর টনপ্রতি ৩০০ টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারণের দাবি করেন।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্টিল রি-রোলিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর হোসেন, স্টিল মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শেখ ফজলুর রহমান, বাংলাদেশ স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মাসাদুল আলম মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শহিদউল্লাহ প্রমুখ।