স্নাতকোত্তর শেষ করে চাকরির জন্য আবেদন করে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাক পেলাম এক অফিস থেকে। ইন্টারভিউতে নানান প্রশ্ন করার পর গালে হাত দিয়ে কর্তা বললেন, আপনার তো কাজের অভিজ্ঞতা নেই। বললাম—জব সার্কুলারে লেখা ছিল ‘ফ্রেশার এনকারেজ টু অ্যাপ্লাই’; তাই আবেদন করেছি এবং ইন্টারভিউয়ে এসেছি, সুযোগ পেলে ভালো কিছু করতে পারব। কিন্তু এমনভাবে আমাকে বিদায় দেওয়া হলো যে আমি বুঝতে পেরেছি এখানে আর আসা হবে না।
কিছুদিন পর আরেক কোম্পানিতে ইন্টারভিউতে গেলাম। সেখানে প্রশ্ন করা হলো আমাদের পোস্ট ও কাজের সঙ্গে তো আপনার অনার্স-মাস্টার্সের সাবজেক্টের মিল নেই। চাকরিটা খুব প্রয়োজন তাই বললাম, আমি চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি এবং জীবনে কিছু চ্যালেঞ্জে সফল হয়েছি। আশা করছি সুযোগ পেলে এ চ্যালেঞ্জেও সফল হতে পারব। বলা হলো—সাবজেক্ট অনুযায়ী জব করেন ভালো হবে। জব ডিসক্রিপশনে উল্লেখ করা ছিল ‘গ্রাজুয়েড ইন অ্যানি ডিসিপ্লিন’। তাহলে সাবজেক্টের বিষয়ে এত আপত্তি কেন?
এবার শিক্ষকতা করার জন্য এক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করলাম, লিখিত পরীক্ষা ও ডেমো ক্লাসে ভালোও করলাম। সবশেষ প্রিন্সিপ্যাল বললেন, কল্যাণপুর থেকে মিরপুর-১২ আসা-যাওয়া তো কঠিন; অনেক সময় নষ্ট হবে আপনার! আশ্বস্ত করে বললাম, কল্যাণপুর থেকে মিরপুর-১২ যাতায়াতের জন্য অনেক বাস আছে আর যাতায়াতে স্বাভাবিকভাবে ২০-৩০ মিনিটের মতো সময় প্রয়োজন হয়। তিনি বললেন, আমরা চাচ্ছি পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে পারবেন এমন শিক্ষক বা শিক্ষিকা! আর কী বলব, সালাম দিয়ে উঠে এলাম।
দুঃখের বিষয়, আমাদের মতো অসহায় তরুণদের কেউ সহজে সুযোগ দিতে চান না। কেন সুযোগ দিতে চান না তা চাকরিদাতারা ভালো বলতে পারবেন। আবার আমাদের সমস্যা কী জানতে চাইলে তাও বলেন না; তাহলে আমরা কী করব বা নিজেকে কিভাবে শুধরিয়ে নেব?
আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ যুবায়ের
আনোয়ারা মঞ্জিল, বাসা ৫০/২, সড়ক ১১, কল্যাণপুর, ঢাকা ১২০৭