সেমিফাইনালও সম্ভব বলছেন সাকিব

ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ভালো সময় পার করছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। গত সোমবার আফগানিস্তান ম্যাচেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন। ব্যাট হাতে করেছেন ৫১ রান, বল হাতে শিকার করেছেন ৫ উইকেট। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ৪৪ বছরের ইতিহাসে কোনো এক আসরে সাকিবই ৪০০ রান ও ১০ উইকেট শিকারি প্রথম ক্রিকেটার হওয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করলেন। এছাড়া বিশ্বকাপে এক হাজার রান ও ৩০ উইকেট নেওয়া একমাত্র ক্রিকেটারও হলেন সাকিব। এই সাকিবের হাত ধরেই এবারের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের আশায় বুক বাঁধছে বাংলাদেশ।

আফগানিস্তানকে হারানোর পর পয়েন্ট তালিকায় ইংল্যান্ডের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। তালিকায় ৫ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ কি পারবে ইংল্যান্ডকে টপকে সেমিফাইনালে ওঠতে? সাকিব বলেন, ‘যদিও গণিতের হিসাবে কাজটা কঠিন। তবে অসম্ভব কিছু না। খেলাটা যেহেতু ক্রিকেট, তাই এখানে সবকিছুই সম্ভব। তাছাড়া বাদবাকি টিমগুলো কী করছে সেদিকেও আমাদের তাকিয়ে থাকতে হবে।’   

ব্যক্তিগত অর্জনকে সাফল্য হিসেবে জাহির করতে চান না ৩২ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। সোমবার আফগানিস্তানকে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে এসে বিনয়ের সঙ্গে এই কথাটাই জানালেন সাকিব। বলেন, ‘ক্রিকেটার হিসেবে আমি নিজের র্যাংকিং নিজে করতে চাই না। এটা করবেন অন্যরা। আমি ব্যাট ও বল হাতে অবদান রাখতে পারছি, এটাই আমার কাছে অনেক তৃপ্তিদায়ক ব্যাপার। আমার মনে হয় টিমের জন্য এটা অনেক প্রয়োজন ছিল। ভাগ্যক্রমে তা করতে পারছি। টুর্নামেন্ট যেভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে আমি সত্যিই আনন্দিত। আমাদের সামনে আরো দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে। ভারত এখন এক নম্বর টিম। তারা শিরোপা প্রত্যাশী। ভারত ম্যাচটি আমাদের জন্য সহজ হবে না। তবে আমরা সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে খেলব।’ 

ভারতের এই দলটা নিয়ে সাকিব বলেন, এই দলে অনেক মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছেন, ‘ভারতীয় স্কোয়াডে বিশ্বমানের ক্রিকেটার রয়েছেন যারা যে কোনো সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিতে পারেন। সাকিবের মতে অভিজ্ঞতা কাজে লাগে। তবে ভালো খেলাও খেলতে হয়। ভারতকে হারাতে হলে আমাদের সেরা খেলা খেলতে হবে। আমি বিশ্বাস করি আমরা যথেষ্ট সক্ষম একটি দল।’ 

গতকাল বাংলাদেশের জয়ে অবদান রেখেছেন উইকেট কিপার মুশফিকুর রহিম। মুশফিকের ৮৩ রানের সুবাদে ২৬২ রানের মাঝারি মানের ইনিংস দাঁড় করায় বাংলাদেশ। তবে হ্যাম্পশায়ার বোলের ধীর উইকেটে এত রান উঠবে এমনটা ধারণায় ছিল না বলে জানালেন সাকিব। বলেন, ‘এটা এমন উইকেট না যে এখানে ৩০০-৩৫০ রান হবে। তাছাড়া আফগানিস্তানের তিনজন বিশ্বমানের স্পিনার আছে। তাই আমরা মনে করেছিলাম ৫০ ওভারে বড়জোর ২৪০ রান করা যাবে। রান যদি এর চেয়ে বেশি হয় তাহলে সেটা আমাদের জন্য বাড়তি পাওনা হবে বলে ধরে নিয়েছিলাম। এই চিন্তাটা আমাদের অনেক কাজ দিয়েছে। কারণ আমরা আফগানিস্তানকে স্বল্প রানে অলআউট করতে পেরেছি। ম্যাচে ৫ উইকেট শিকারের রহস্য জানাতে গিয়ে সাকিব বলেন, বোলারদের সবসময় উইকেটের সুবিধাটা কাজে লাগাতে হয়। আমি আজকে সেই সুবিধাটা কাজে লাগাতে পেরেছি। তাছাড়া গত কয়েকমাস ধরে নিজের ফিটনেস নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করার সুফল এখন পাচ্ছেন বলেও জানান এ অলরাউন্ডার।’