ভুল থেকে শিখছেন রাবাদারা

বিশ্বকাপ বরাবরই দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ‘হতাশাজনক’ একটি মঞ্চ। তবে এবারের বিশ্বকাপটা তাদের একটু বেশিই হতাশা দিয়ে গেল। গেল রোববার লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই বিদায় নিতে হলো চোকারদের।

তবে, ব্যর্থ এক বিশ্বকাপ শেষে নিজেদের ভুলগুলো থেকে শিখতে চায় দক্ষিণ আফ্রিকা। দলটির পেসার ক্যাগিসো রাবাদা বলেন, এই বাজে পারফরম্যান্স তাদের আরো ‘জ্ঞানী’ করে তুলবে।

তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু ব্যাপার এই বিশ্বকাপে ঘটেছে, যার জন্য নিজেদের দুর্ভাগ্যবান ভাবতেই পারি আমরা। আবার কিছু কিছু সময় আমরা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী খেলতে পারিনি। তবে, এ সব কিছুই আমাদের ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা হিসেবে কাজ করবে। এজন্যই তো আমরা খেলি। যদি, আপনি চূড়ায় উঠতে চান তাহলে প্রতিনিয়তই আপনাকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। এখানে সহজ বলে কোনো ব্যাপারই নেই।’

প্রোটিয়ারা বিশ্বকাপ খেলছে ১৯৯২ সাল থেকে। এই নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো দলটি বিদায় নিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। তবে, এই বাস্তবতা মানছেন রাবাদা। তিনি বলেন, ‘এখানে খেলাটা আমাদের জন্য সত্যিই খুব কঠিন একটা অভিজ্ঞতা ছিল। এর জন্য আমরা বাদে আর কেউ দায়ী নয়। আমি মনে করি এই বাস্তবতাটা বুঝে ফেলতে হবে। আর খেলাধুলার ক্ষেত্রে এই বাজে সময় আসবেই।’

দেশে ফেরার আগে আরো দুটি ম্যাচ হাতে আছে রাবাদাদের। প্রতিপক্ষ হলো শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়া। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ জুন, শুক্রবার।  এই দুটি ম্যাচ জিতলেও হয়ত এই দুঃসময় দ্রুতই ভুলতে পারবে না দলটি।

প্রোটিয়াদের সাবেক তারকা ক্রিকেটার জ্যাক ক্যালিস মনে করেন ইংল্যান্ডের আদর্শ অনুসরণ করার সময় চলে এসেছে দলটির। চার বছর আগে বাজেভাবে বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব থেকে বাদ পড়া দলটি এবারের বিশ্বকাপ খেলছে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে। গেল চারটা বছর নিজেদের ভেঙেচুড়ে গড়তে চেষ্টার কোনো কমতি রাখেনি ইংলিশরা।

রাবাদা মনে করেন, ইতিবাচক থাকলেই নিজেদের সুদিন ফেরাতে পারবে দক্ষিণ আফ্রিকা। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের নতুন রূপে ফিরে আসার কোনো বিকল্প নেই। এর জন্য প্রথমত সবচেয়ে জরুরি হলো ইতিবাচক মানসিকতা ধরে রাখা। আমরা চেষ্টার কোনো কমতি রাখব না।’ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যর্থতার অন্যতম কারণ রাবাদা নিজেও। ৫০.৮৩ গড়ে তিনি নিয়েছেন মাত্র ছয় উইকেট। অথচ, দারুণ একটা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) কাটানোর পর রাবাদার ওপর প্রত্যাশাটা আরো বেশি ছিল প্রোটিয়াদের।

নিজের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে রাবাদা বলেন, ‘আমি মনে করি, আইপিএলে আমি আরো ভালো বোলিং করেছি। ভালো ফলাফল পেয়েছি। এই টুর্নামেন্টে সেই তুলনায় আমার বোলিং ছিল সাদামাটা। অবশ্যই আমি এর চেয়ে আরো ভালো করতে চেয়েছিলাম। বিশ্বকাপ হলো এমন টুর্নামেন্ট যেখানে সবাই নিজেদের মেলে ধরার জন্য মুখিয়ে থাকে।’